ঢাকা: শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, বিগত আন্দোলনের সময় চরম অপরাধ করে আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। কেবল অপরাধী, চোর ও অন্যায়কারীরা বিচার বা শাস্তির ভয়ে পালিয়ে যায়, সৎ ও নির্দোষ রাজনীতিকরা কখনো দেশ ছেড়ে পালান না বরং দেশে থেকেই সকল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন।
তিনি বলেন, ‘অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধীরা তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। পালায় কে? পালায় যে দোষী, পালায় যে অপরাধী, পালায় যে চোর, পালায় যে লুটেরা। তারা শুধু পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষরা দেশে থাকে। ফাঁসি হলে ফাঁসি নেবে, খুন হলে খুন হবে, জেলে নিলে জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।’
সংসদীয় অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। আল্লাহ তালার শুকরিয়া আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ।’
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছিল যার মূল নেতৃত্বে ছিল দেশের তরুণ সমাজ। ১ হাজার ৪ শত শহিদ এবং অগণিত আহত মানুষের রক্তের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশীয় রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে নানা উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারতের সাথে সৎ প্রতিবেশীসুলভ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি হলেও চিহ্নিত অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক অপতৎপরতার সুযোগ সৃষ্টি দুঃখজনক। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার ও তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকার স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।