সাব-হেডিং: এক মাস পেরোলেও হিসাব প্রকাশ হয়নি। স্বচ্চতা নিয়ে বিতর্ক
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রতিবছর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৩ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ১ মাস পেরোলেও মিলেনি কোন হিসাব। প্রত্যেকবারের মত এবছরও খেলা ও মেলার আয়-ব্যয় হিসাব নিয়ে গড়িমসি করার প্রশ্ন উঠেছে মেলা আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে।
ঐতিহাসিক সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলা নিয়ে কর্ণফুলীবাসীর আনন্দের শেষ নেই। এলাকাজুড়ে আনন্দের উচ্ছ্বাস! গণমাধ্যমে বিশেষ উত্তাপ, বিশেষ আয়োজন। কিন্তু যাদের ঘিরে এত আয়োজন, সেই মাঝিরা বরাবরই রয়ে যান উপেক্ষিত। তারা কি পান প্রাপ্য সম্মান? এখানে খেলাটি মুখ্য, নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু? —সম্প্রতি সাম্পান খেলার ২০তম আয়োজন শেষে এমন প্রশ্ন ওঠেছে বিভিন্ন মহলে। ট্রল হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
বিশেষ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঐতিহাসিক এই সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতি মেলা ঘিরে কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। লিখিত থাকলেও তা বরাবরই অপ্রকাশিত। সব হিসাব-নিকাশ যেন অদৃশ্য। সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই অজানা। যে যার মতো করেন আয়, আবার খরচও করেন নিজের মতো। এভাবেই চলে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর।
এদিকে, প্রতিবছরই সাম্পান খেলাকে ঘিরে বসে ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতি মেলা। এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল মাঠ ঘিরে বসে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শত শত দোকানপাট। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার লোকজন মেলা দেখতে এসে এই আয়োজনকে করে তুলে আরো প্রাণোবন্ত।
কিন্তু এই মেলা ঘিরে চলে নানা ধরনের ধান্ধাবাজি।
অনুসন্ধান বলছে— কাঙ্ক্ষিত চাওয়া থেকেও এবারর বেশি দোকানপাট বসেছে। মেলা ঘুরে দেখলে প্রত্যেক দোকান থেকে চওড়া হারে ভাড়া নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাঝেমাঝে বিভিন্ন দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজির কথাও উঠেছে। যদিও মেলা শুরুর আগে এবং চলাকালীন সময়ে মাইকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার ‘হাঁকডাক’ কানে আসে। কিন্তু দোকানিরা আসা শুরু করতেই পুরোপুরি পাল্টে যায় বাস্তব চিত্র। ফলে, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা এবং খেলা— দুটোর আয়োজনই হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।
এলাকাবাসী বলেন— সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতি মেলা চট্টগ্রামে ঐতিহ্য। এ উৎসবমুখর আয়োজনকে ঘিরে কর্ণফুলীতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। কিন্ত একটি কুচক্রী মহল এ আয়োজনকে ম্লান করতে চাই। তারা প্রত্যেক বছর সাম্পান খেলার নাম বিক্রি করে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। কিন্তু এ টাকা কারা দিচ্ছেন এবং খেলার কোন খাতে কত খরচ করছে তার কোন সঠিক হিসাব কেউ পাই না। তারা এ আয়োজনকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ টাকা ধান্ধাবাজি করে। প্রত্যেক বছর আয়োজন শেষে খেলার আয়-ব্যয় হিসাব নিয়ে লোকমুখে নানান কথা রটে। এবছরও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে কর্ণফুলীর সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতি মেলার আয়োজক কমিটির কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘিরে।
এত আলোচনা-সমালোচনার পরেও তাদের ভ্রুক্ষেপ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে এ খেলা ও মেলা আয়োজনে এলাকাবাসী তাদেরকে প্রতিহত করবে বলেও হুশিয়ারী দিয়েছে।
আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম খাঁন বলেন, কর্ণফুলীতে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এটা কর্ণফুলীর মানুষের জন্য খুবই আনন্দের। কিন্তু এ আনন্দকে অনেকে ধান্ধাবাজির কাতারে নিয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার একমাস পরেও মিলছেনা যাবতীয় আয়-ব্যয় হিসাব। তিনি আরো বলেন, এটা কোন নতুন বিষয় না। প্রত্যেকবারই অনুষ্ঠানের শেষে আয়-ব্যায় নিয়ে গড়িমসি করা একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার কাছে “নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি” জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, এর জন্য দায়ী কারা? তিনি বলেন, যারা কমিটির মূল দায়িত্বে রয়েছে তারাই এ কারসাজি করে। তারাই এর জন্য দায়ী। তারা আমাদেরকে কমিটিতে রেখে মাথা বিক্রি করে খাচ্ছে। আমি হিসাবের বিষয়ে এ পর্যন্ত তাদেরকে একাধিক বার তাগাদা দিয়েছি এবং অন্যজনের মাধ্যমেও কথাটা তাদেরকে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথায় বরাবরই কান ভাসিয়ে দিচ্ছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এস এম পেয়ার আলী বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আপনি আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মির্জা ইসমাইল থেকে জানতে পারবেন।
সাম্পান খেলা ও মেলা lক কমিটির আহ্বায়ক মির্জা ইসমাইল বলেন, সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতি মেলার আয়-ব্যয় হিসাবের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছি। তিনি আরো বলেন, আব্বাস কনস্ট্রাকশন সাম্পান খেলা ও চাটগাঁইয়া সাংস্কৃতিক মেলার প্রধান উপদেষ্টা আব্বাস আলীর সাথে আলোচনা করে শিগগিরই একটা বৈঠকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয় হিসাব দেওয়া হবে।