শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

ভারতের ঝাড়খন্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৯ সময় দেখুন
ভারতের ঝাড়খন্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭


ভারতের ঝাড়খন্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়ার কাছে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের দুইজন ক্রু সদস্য এবং একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী রয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে।

রাজ্য সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজটি রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) শুভম খন্ডেলওয়াল পিটিআইকে নিশ্চিত করেছেন, সাতজনের মরদেহই উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, বিকাশ কুমার গুপ্ত, শচীন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা রেডবার্ড এয়ারওয়েজ পরিচালিত বিচক্রাফ্ট সি৯০ উড়োজাহাজটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।

উপকমিশনার কীর্তিশ্রী জির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয় এবং পরে সিমারিয়ার ঘন জঙ্গলঘেরা বারিয়াতু পঞ্চায়েত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বিমানটি উড্ডয়নের পর কলকাতার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। পরে, সন্ধ্যা ৭:৩৪ মিনিটে, রাডার থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে, ক্রুরা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ করে। তারপরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রচণ্ড বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। ঝড়ের মধ্যে বিকট শব্দে উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে।

রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল দুর্ঘটনার তদন্ত এবং এর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য একটি দল পাঠিয়েছেন।

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্ত সিনহা জানান, লাতেহার জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমারের (৪১) জন্য ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

রোগীর এক স্বজন জানান, শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় সড়কপথে নেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই তারা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বেছে নিয়েছিলেন।

বিজয় কুমার নামের এক আত্মীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তাকে (সঞ্জয়) সড়কপথে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক বলেছিলেন, তাতে রোগী পথেই মারা যেতে পারেন। চিকিৎসক পরামর্শ দেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা গেলেই যেন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়।’ বিজয় আরও বলেন, ‘তাই আমরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সিদ্ধান্ত নিই। পরে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর