কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। আর কৃষিকে কেন্দ্র করেই দেশের অনেক উদ্যোক্তা তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে নিচ্ছেন। একই সাথে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে। জনাব শওকত আলী বুলবুল এমনই একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ব্যবসার লক্ষ্যে একজন আম বাগান মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এই প্রবীণ উদ্যোক্তা আজ উত্তরাঞ্চলের একজন প্রখ্যাত আম ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।
অনেক শ্রম, বিচক্ষণতা আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে জনাব শওকত আলী বুলবুলের আম ব্যবসার অতি ক্ষুদ্র উদ্যোগ এক মহীরুহ হয়ে ওঠে। আজ আমরা জানবো এই অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর জীবনের গল্প, তাঁর উদ্যোক্তা হবার পেছনের ইতিহাস এবং ব্যবসা সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
ওয়াইএসএসইঃ আপনি কবে এবং কী উদ্দেশ্যে আমের ব্যবসায় আগ্রহী হন?
শওকতঃ আমি ১৯৮৬ সালে পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ব্যবসার দায়িত্ব নেই। তবে কয়েক বছর পর ব্যবসায় বিশাল ক্ষতির মুখ দেখতে হয়। এরপর ১৯৯২ সালে কৃষি ব্যবসার দিকে মনোনিবেশ করি। ফসলি জমির পরিবর্তে আমি আমের বাগান থেকে অগ্রীম চুক্তিতে ফল কেনার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যা আমার ব্যবসার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয়। মূলত জীবন-জীবিকার তাগিদ থেকেই এই পেশায় আসা। তবে ব্যবসার মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবিকার সংস্থান করে দেওয়া সম্ভব – এই অনুপ্রেরণাও আমার ছিল।
ওয়াইএসএসইঃ কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আপনার যাত্রা শুরু?
শওকতঃ মাত্র ২৪০০ টাকা পুঁজি করে ১৯৯২ সালে আমি আমের ব্যবসায় নেমে পড়ি। বিশেষ কোনো প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুরু হয় আমার আম বাগানের কাজ। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে আমি এই ব্যবসায়িক উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠিত করি।
ওয়াইএসএসইঃ আপনার ব্যবসায় সফলতার পেছনে কার কার অবদানের কথা উল্লেখযোগ্য?
শওকতঃ পরিবারের সকলের সম্মিলিত পরিশ্রমের বদৌলতে আমি সফলতার মুখ দেখতে সক্ষম হই। বিশেষত স্ত্রী, বড় বোন, কয়েকজন ভাই ও বন্ধুর সহযোগিতায় ধীরে ধীরে আমি আমার ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে থাকি। দীর্ঘ তিন যুগ আগে নিজের হাতে শুরু করা আমের ব্যবসায়ে বর্তমানে আমার অধীনে ২৫ জন কর্মচারী কাজ করছেন।
ওয়াইএসএসইঃ আপনার আম ব্যবসায়ের বর্তমান চিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন।
শওকতঃ প্রতি গ্রীষ্মে আমার ২৫ জন কর্মীর সাথে সাথে আমি নিজেও সামনে থেকে আমের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকি। প্রায় চার দশক ধরে আমি ও আমার পরিবার এখনো নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছি ব্যবসাকে আরো সামনে নিয়ে যাবার জন্য। আমার এই ব্যবসার মধ্য দিয়ে নিজের সাথে সাথে আরো অনেক পরিবারের আয়ের সংস্থান করতে পারছি, যা আমার কাছে অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।
ওয়াইএসএসইঃ ব্যবসা নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
শওকতঃ আঞ্চলিক আমের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্যে সম্প্রতি অনলাইনে আম বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। আম গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও, গ্রীষ্ম মৌসুমের বাইরেও সারা বছর দেশের মানুষের কাছে আম পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন আমার। এজন্য বাগানকেন্দ্রিক কৃষি গবেষণা ও হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছি। ভবিষ্যতেও আম বিক্রয়, বিপণন ও আমের মানোন্নয়নের মাঝেই ব্যস্ত থাকতে চাই আমি।
ওয়াইএসএসইঃ নতুন প্রজন্মের উঠতি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সফলতার জন্য কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
শওকতঃ সফল ব্যবসায়ী হিসেবে টিকে থাকার জন্যে সততা, সময়ের সদ্ব্যবহার, বিশ্বাস, প্রচেষ্টা – এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্যে অনেক মূলধন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ততটা জরুরি নয়। তাছাড়া, ব্যবসায় বারবার ব্যর্থ হওয়াটাও স্বাভাবিক ঘটনা। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে সেটার জন্যে লেগে থাকতে হবে এবং নিজের সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে যেতে হবে।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার জন্য সৎ সাহস আর লক্ষ্যে পৌঁছানোর অধ্যবসায় থাকলে উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হিসেবে সাফল্য খুঁজে পাওয়া যায় – জনাব শওকত আলী বুলবুলের দীর্ঘ কর্মজীবন তারই সাক্ষ্য দেয়।
আরো জানতে – জনাব শওকত আলী বুলবুলের ফেসবুক পেজ
আমাদের অন্যান্য ব্লগগুলো পড়তে ক্লিক করুন এখানে