মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ঈদের ছুটিতে চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১৮ দফা নির্দেশনা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন
ঈদের ছুটিতে চিকিৎসা সেবা: স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১৮ দফা নির্দেশনা


ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক এবং নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ১৮ দফার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে ঈদের ছুটির মধ্যেও রাজধানীসহ দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ রোস্টারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঈদেও বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব সেবা চালু থাকবে। আমরা সেভাবেই রোস্টার তৈরি করেছি। সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি আছে আমাদের।

কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। ইনডোর, ইমার্জেন্সি ও প্রয়োজনীয় সব সেবা খোলা থাকবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি কোনো হাসপাতাল বন্ধ রাখা যাবে না। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে ২৬ ও ৩০ মে হাসপাতালের সব বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে খোলা রাখা হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতাল ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে, এই সময়ে প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগ খোলা থাকবে। ২৭ মে ও ৩০ মে বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। রোগীদের সুবিধার্থে ওই দুই দিন বহির্বিভাগ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল-এর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে শুধু মুগদা, কুর্মিটোলা বা বিএমইউ নয়, রাজধানীসহ সারাদেশের সব হাসপাতালেই চিকিৎসাসেবা চলমান থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১৮ দফা বিশেষ নির্দেশনা-

১. জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চিকিৎসক: হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

২. সার্বক্ষণিক ল্যাব ও স্ক্যান সেবা: জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

৩. পর্যায়ক্রমে ছুটি: কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে।

৪. জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি: প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন।

৫. জেলাভিত্তিক জনবল সমন্বয়: সিভিল সার্জনরা বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধু ঈদের ছুটির সময়ে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন।

৬. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা: হাসপাতালের আন্তবিভাগ ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. হাম ও শিশু ওয়ার্ডে বিশেষ নজর: বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে শিশু ওর্য়াড এবং হাম আইসোলেশন ওর্য়াডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকাল ও বিকাল দুইবেলা রাউন্ড দেবেন।

৮. পর্যাপ্ত ওষুধ ও সামগ্রী মজুত: ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্টোর কিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন।

৯. অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস: হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে।

১০. নিরাপত্তা জোরদার: ছুটির সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম চিঠি দিতে হবে।

১১. অগ্নিনির্বাপণ সতর্কতা: ছুটির সময়ে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১২. যোগাযোগ ও কুশল বিনিময়: প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন।

১৩. দায়িত্ব হস্তান্তর: প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

১৪. উন্নতমানের খাবার পরিবেশন: প্রতিষ্ঠান প্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

১৫. বহির্বিভাগ বন্ধের নিয়ম: হাসপাতালের বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে ২৬ মে ও ৩০ মে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৬. বেসরকারি ক্লিনিক ও রেফারেল নিয়ম: ক) সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ এবং হাম ওয়ার্ড খোলা রাখবে।

খ) কোনো রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

গ) রেফার্ড রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।

ঘ) উন্নত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছাড়া রোগী রেফার করার প্রবণতা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

১৭. পশুর হাটের নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রস্তুতি: কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি রাখতে হবে।

১৮. কন্ট্রোলরুমে তথ্য প্রদান: যে কোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom