নিজস্ব সংবাদদাতা
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা আজগর আলী শুরুতেই তিনি তেলের ব্যবসা করে দিন যাপন করতেন, রাতারাতি হয়ে যান বড় সাংবাদিক, বিনা ভোটে হয়ে যান রাজস্হলী প্রেসক্লাবের সভাপতি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকারের সময় বিএনপি হিসেবে তার রয়েছে সুখ্যাতি, সাংবাদিকতা একটি মহান আর এই পেশাকে কলঙ্কিত করার জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন এক চাঁদাবাজ সম্রাজ্য বিভিন্ন অফিস আদালত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রেসক্লাবের সভাপতি বলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি, কথায় আছে দশ দিন চুরের একদিন গিরস্তের –
গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরএমপি) লক্ষ্য হলো প্রান্তিক, স্বামী পরিত্যক্তা, অসহায় ও বিধবা নারীদের ৪০ দিন বা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করার এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ যখন প্রশংসিত, ঠিক তখনই এর ওপর পড়েছে স্থানীয় এক সাংবাদিকের লোভের কালো ছায়া।
https://www.facebook.com/share/v/19eNa8DcvS/
কর্মসংস্থানের আশা দেখিয়ে একজন অসহায় নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খানের বিরুদ্ধে। একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন অনৈতিক ও নিম্নরুচির কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজস্থলীজুড়ে প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবি উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের মে মাসে রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান উপজেলার মনোয়ারা বেগম নামে এক নারীর নিকট থেকে আরএমপি প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ ৭,০০০ টাকা ঘুষ নেন। পরবর্তীতে তিনি মনোয়ারা বেগমকে আরও ৩,০০০ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
মনোয়ারা বেগম এই অর্থ প্রদান করেছিলেন তার মেয়ে পারবিন বেগমের একটি কর্মসংস্থানের আশায়। স্বামী পরিত্যক্তা পারবিন বেগম দুই সন্তান নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। সন্তানের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মনোয়ারা বেগম ধার-দেনা করে এই টাকা আজগর আলী খানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা, সাংবাদিক আজগর উল্টো অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ২৯ অক্টোবর যখন আরএমপি প্রকল্পের আওতায় নারীদের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার বিষয়টি সবার সামনে উন্মোচিত হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নাম না আসায় এবং পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার একটি ভিডিও স্টেটমেন্ট প্রদান করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
প্রতারণার বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে মনোয়ারা বেগম রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও কার্যালয় থেকে এই লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এবং প্রশাসনিক চাপের মুখে আজগর আলী খান মনোয়ারা বেগমের স্বামী লোকমানের কাছে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও গাইন্দ্যা ইউনিয়নবাসী মনে করছেন—কেবল টাকা ফেরত দিয়েই এই অপরাধের দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি শুনেছি লোকমানের স্ত্রীর কাছ থেকে ৭,০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং তারা ইউএনও সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে আমার ইউনিয়ন পরিষদে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি, বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাজস্থলী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের কোনো লেনদেন বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।
সমাজ ও রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে খ্যাত সংবাদপত্রের দায়িত্ব যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি উন্মোচন করা, সেখানে রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের মতো একটি দায়িত্বশীল পদের সভাপতি কর্তৃক দুস্থ ও অসহায় নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতিমালা (IFJ Standard) অনুযায়ী, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী এবং চরম ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
গাইন্দ্যা ইউনিয়নবাসী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে একজন সাংবাদিকের কাজ হওয়ার কথা ছিল অপরাধের বিরুদ্ধে কলম ধরা, সেখানে তিনি নিজেই অসহায় মানুষের রক্তচোষা প্রতারকে পরিণত হয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়া কোনো আইনি সমাধান হতে পারে না; আজ যখন ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে এসেছেন এবং ভিডিও বার্তায় সত্য তুলে ধরেছেন, তখন এই ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা উচিত।”
স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযুক্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় ও জাতীয় সাংবাদিক সমাজকে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর দাবি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।