শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে শিল্পাঞ্চল পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পর অনেকটায় স্বাভাবিক কর্ণফুলীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫৩৫ অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইরান, গাজা, ইউক্রেনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের মানে কী Ramayana Box Office Collection Day 1: Ranbir Kapoor, Yash’s Film Mints Rs 64.85 Crore On Opening Day | Bollywood News ‘Ordinary bowler’: Ex-India captain slams CSK’s ‘confusing’ trade, says SRH are the real winners | Cricket News শিল্পকারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে পলাতক আ.লীগের ইন্ধন রয়েছে: রিজভী মইজ্জ‍্যারটেকে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসার অভিযোগ ‎শ্যামনগরে লবণাক্ততা নিরসন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রতারক সোহাগ গ্রেফতার, প্রতারণা করে কোটিপতি, নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১২১ সময় দেখুন
প্রতারক সোহাগ গ্রেফতার, প্রতারণা করে কোটিপতি, নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠিকাদারির ভুয়া কার্যাদেশ ও বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে ৩০ শতাংশ লভাংশের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক প্রতারক কে গ্রেপ্তার করছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ সোহাগ ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকায় তাদের বাড়ি। তার বাবার নাম মোঃআইনুল ইসলাম। অভিযোগে জানা গেছে বিরাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকার মোঃশামীম ভুইয়া কে প্রতারক সোহাগ ইসলাম তার গরুরখামার, মুরগির খামার, সহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখান।

এক পর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তি তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন বলে চুক্তিপত্রের কাগজপত্র ছাড়া ঠিকাদারি ব্যবসার ওয়ার্কওয়াডর দেখানো হয়। এতে মোঃশামীম ভূঁইয়া আত্মীয়তার পরিচয় ছাড়া ও একই গ্রামের বিশ্বস্ত হওয়ায় তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্টাম্প এর মাধ্যমে এক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে গত ২০১৭ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট এক কোটি ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর উক্ত ব্যবসার বিষয়ে শামীম ভুইয়া খোঁজখবর নিতে গেলে তাকে জৈনক মোশারফ হোসেন শামসুদ্দিন এর সাথে ৮ কোটি টাকার রড ও ৩৫ লাখ টাকার সিমেন্টের ব্যবসার চুক্তিপত্র দেখানো হয়।

এছাড়া অপার একটি কার্যাদেশ মেসার্স চান মিয়া বিকস এর ওয়ার্ক ওয়ার্ডার যার পরিমান ১ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৭ টাকার কাজ হস্তান্তরের চুক্তিনামা দেখানো হয়।
আর মামলার বাদি মুহাম্মদ শামীম ভুয়াকে মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজের একটি কার্যদেশ প্রদান করে বলেন, এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে তার সঙ্গে ব্যবসার হিসাব নিয়ে বসবেন। আর মামলার বাদীর পাওনা হিসাব লভাংশসহ সব বুঝিয়ে দেবেন। এতে মামলার বাদি অশান্ত হন। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও প্রতারক সোহাগ ইসলাম তার পাওনা টাকা দেই, দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এরপর মামলার বাদী তার প্রতি সন্দেহ হলে তিনি সোহাগের দেওয়া সকল কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্রের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে যে, সকল কাগজপত্রই ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করা। পরে প্রতারক সোহাগের সঙ্গে গত ১২ এপ্রিল মামলার বাদি শামীম ভুইয়া যোগাযোগ করেন।এর ৩ দিন পর গত ১৫ই এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭ তার দিকে পল্টন থানাধীন ৩০/এ ভিআইপি রোডস্থ নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টরে শামীমকে দেখা করতে বলেন। তার কথামতো ঐদিন মামলার বাদী উক্ত হোটেলে সাক্ষীদের নিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় সোহাগ ইসলামের সঙ্গে ৫/৬ জন সন্ত্রাসী অবস্থান করছিল। তখন তাদের সামনে সোহাগ ইসলামের কাছে মামলারবাদি তার পাওনা টাকা ও লাভসহ দাবি করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা মামলার বাদী শামীম ভুইয়ার ওপর হামলার চেষ্টা চালাই এবং তিনি প্রতারক সোহাগের কাছে কোন টাকা পাবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে মামলার বাদী ও তার সাক্ষীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ হুমকি ধমকি দেন। পরে পরিবারসহ তাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে এ ঘটনার পর গত ১৭ এপ্রিল পল্টন থানায় শামীম ভুইয়া বাদী হয়ে প্রতারক সোহাগ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার-৩৫ ধারা ৪০৬/৪২০/৫০৬। উক্ত মামলার পল্টন মডেল থানা পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক সোহাগ ইসলামকে গ্রেফতার করে। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালতের শুনানি শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতারক সোহাগ ইসলাম ৫ থেকে ৭ বছর আগে টেইলার্সের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। এ সময় তার বাবা মোঃআইনুল ইসলাম বাস কাউন্টারের চেকারের কাজ করতেন। বর্তমানে স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রতারণার মাধ্যমে চারটি গরুর খামার, দুইটি মুরগির খামার, চারটি ইটভাটার মালিক এবং ডুপ্লেক্স বাড়ি ছাড়াও বেশ কয়েকটি মাটি কাটার ভেকুর মালিক হয়েছে। এছাড়া নামে বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। জিরো থেকে হিরো হওয়া প্রতারকের বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। মামলার সূত্রে জানায় গ্রেফতারকৃত প্রতারক তদন্তকারীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য।সে সু- পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা সম্পর্কে মামলার বাদীর কাছ থেকে মোট১ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক সোহাগ ইসলাম স্বীকারও করেছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর