বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বোনকে জবাই করে হত্যা, দেড় বছর পর রহস্য উদঘাটন – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২
  • ১৮৯ সময় দেখুন
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বোনকে জবাই করে হত্যা, দেড় বছর পর রহস্য উদঘাটন – Corporate Sangbad


মাসুদ রানা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বৃ-আঙ্গারু গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারজু খাতুন (২৮) হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে সিআইডি পুলিশ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই নারজুর বড় ভাই আতাহার সরদার ও তার স্বজনরা নারজুকে গলাকেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনা আটক রনজু খাতুনের হত্যাকারী সরোয়ার হোসেন নামে একজন আটক করার পর সে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার (২০ জুলাই) সিআইডি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিআইডি ইন্সপেক্টর মো.ওহেদুজ্জামান।

হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী নারজুর বড় ভাইসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি ইন্সপেক্টর মো.ওহেদুজ্জামান।

সিআইডির পুলিশ সুপার মোঃ কামাল হোসেন এর প্রত্যক্ষ তদারকী ও দিক নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামী মোঃ সরোয়ার মোল্লা সঞ্জু মোল্লাকে দীর্ঘদিন গ্রেফতারের চেষ্টার পর গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে উক্ত আসামী বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামলার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে হত্যাকান্ডের বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশ করে।

তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে প্রকাশ পায় যে, বাদী পক্ষের প্রতিপক্ষ আওয়াল হত্যা মামলার ঘটনার পর উল্লেখিত মামলার প্রতিপক্ষগণ বাদী পক্ষের ঘর-বাড়ী ভাংচুর, গরু, ছাগল ও মালামাল লুটপাট করে এবং ভয়ে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়ীঘর ছাড়া হয় এবং অনেকেই জেল হাজতে ছিল।

সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. ওহেদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, শাহজাদপুর উপজেলার বৃ-আঙ্গারু গ্রামের আতাহার হোসেনের ছেলে সবুজ বাদী হয়ে তার ফুফু নারজু বেগমকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে মর্মে বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় তাদের প্রতিপক্ষকে আসামী করেন এবং উল্লেখ করেন ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে পরদিন বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ফুফুকে ডেকে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে।

থানা পুলিশ তদন্তের একপর্যায়ে মামলাটি সিআইডির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহন করে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারেন, মামলার বাদীপক্ষ এবং আসামীপক্ষ একই এলাকার বাসিন্দা। ধোলাই নদীর জলকরসহ নানা বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ চলছিল। তারই ধারাবাহিকতা ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সকালে এলাকায় দুপক্ষের সমন্বয়ে এক শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মামলার বাদী সবুজ ও তার বাবা আতাহারসহ তাদের পক্ষের লোকজন আব্দুল আওয়াল নামে একজনকে মারপিট করে হত্যা করে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় সবুজ ও তার পিতাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে সিআইডি গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে এবং মামলার সন্দেহভাজন আসামী সরোয়ার হোসেন সনজু নামে একজন আটক করেন। পরে সনজুকে আদালতে সোপর্দ করলে আসামী সনজু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। জবানবন্দিতে আসামী সরোয়ার হোসেন সনজু উল্লেখ করেন, আওয়াল হত্যাকান্ডের পর আওয়ালের স্বজনরা তাদের ঘরবাড়ী ভাংচুর, গরু, ছাগল ও মালামাল লুট করে নেয়। ভয়ে তারা দীর্ঘদিন ঘরবাড়ী ছেলে পালিয়ে থাকে এবং অনেকে জেলহাজতে ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য প্রতিপক্ষককে ঘায়েল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজেদের কাউকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১ থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আমরা সকলেই (যে কয়জন ঘটনার সাথে জড়িত) ঘটনাস্থলে একত্রিত হই এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারজু খাতুনের বড় ভাই আতাহারের নির্দেশে আমাদের মধ্যে একজন নারজু খাতুনকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে আতাহারের নির্দেশে অন্যান্যদের সহযোগীতা একজন নারজু খাতুনকে গলাকেটে হত্যার পর ফাঁকা জায়গায় ফেলে রাখা হয়।

এরপর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:

ট্রেনের ছাদে আজ থেকে যাত্রী নেওয়া বন্ধ : হাইকোর্ট

বেলকুচিতে প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল, ওসি বদলী

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ২





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর