জাকির হোসেন আজাদী : আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো আওয়ামী সমর্থিত সাদাদলের প্যানেল পরিচিতি। ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মুহুর্মুহু শ্লোগান আর করোতালির ধ্বনিতে উৎসবমূখর প্রাণবন্ত এক আড়ম্বরপূর্ণ আনন্দঘন অনুষ্ঠানে প্যানেল সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন।
সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, “বিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুগণ, আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিবেন। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি কোভিড-১৯ সহ ইতোমধ্যে যে সকল আইনজীবী মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদেরকে। সভাপতি পদে আমি একজন প্রার্থী ব্যালট নম্বর- ৩।

প্রিয় আইনজীবীবৃন্দ,
মহান আইন পেশায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক নবীন আইনজীবী বন্ধু সব সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করে আসছেন। পরিতাপের বিষয়, সমিতির বিদ্যমান ভবনগুলােতে বিজ্ঞ বন্ধুদের বলার পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় তাঁদের পেশা পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সমিতির উন্নয়ন ও ভবন সংস্কারের জন্য সম্প্রতি প্রায় ১৭ কোটি টাকার সরকারী বরাদ্দ ও চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড আইন পেশার প্রতি বর্তমান সরকারের ইতিবাচক মনােভাবেরই বহিঃপ্রকাশ, আমি চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সম্পূর্ণ সরকারী অনুদানে অত্যাধুনিক নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করব যেখানে বিজয় আইনজীবীদের জন্য ফিজিওথেরাপি বিধাসম্বলিত আধুনিক ক্লিনিক, চিনেলেয়ান, কারপার্কি, সুইমিং পুল, হলরুম, কিউবিকেলস এবং বােনদের জন্য পৃথক আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার ও বেস্ট ফিডিং কর্নারসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে ইনশাআল্লাহ।
ইতােপূর্বে আমি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারী অনুদানে স্বল্প সময়ে এনেক্স ভবন নির্মাণ করি এবং দল-মতের উর্ধে উঠে বিজ্ঞ আইজাবীদের নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে কিউবিকেলস বাদ দিয়েছিলাম। মনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের বঙ্গনেতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে সমতার ভিত্তিতে কিউবিকেলস বরাদ্দ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। গান বি সদস্যদের বেনাভােলেন বৃদ্ধি এবং জীবনশায় এর সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্ৰয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট থাকব। একইসাথে সামি নির্বাচিত হলে বিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে আপ্রাণ চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
বিজ্ঞ বন্ধুগণ,
আইনজীবী হিসেবে গভীরভাবে অনুধাবন করি যে, বিজ্ঞ আইনজীবীর বিশেষ করে নবীন আইনজীবী বন্ধুগন সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশা পরিচালনায় প্রশাসনিক অনিয়ম, বায়ােগত বিলম্বসহ নানামুখী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। আপনাদের মূল্যবান ভােটে সভাপতি নির্বাচিত হলে মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে বঙ্গ প্রকার প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব ইনশাল্লাহ।
প্রিয় আইনজীবী বন্ধুগণ,
বার ও বেঞ্চ একে অপরের পরিপূরক আইন পেশার উপকর্ষ সাধন ও আইনজীবীদের কল্যাণে বার ও বেঞ্চের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরী আপনারা আমাকে সভাপতি পদে নির্বাচিত পরলে, আমি আপনাদের সহযোগিতায় বার ও বেঞ্চের সুসম্পর্কের গৌরবােজ্জল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারব বলে বিশ্বাস।
বিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুগণ,
আপনাদের নিকট এই প্রতিকৃতি প্রদান করছি যে, আনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে আমাদের সমিতিকে সকল দূর্নীতি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উদ্ধে রাখবো। শুধুমাত্র বিজ্ঞ আইনজীবীদের সার্থ ও আইন পেশার মর্যাদা অক্ষুন্ন রক্ষার্থে আপনাদের সাথে নিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করব। সময় সল্পতার কারণে সবার সাথে সাক্ষাৎ করে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করে সভাপতি পান আপনাদের মূল্যবান ভোট, দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছি।

অনুষ্ঠানে সেক্রেটারি পদপ্রার্থী এডভোকেট আবদুন নূর দুলাল বলেন, শ্রদ্ধেয় সিনিয়র আইনজীবীবৃন্দ ও বিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুরা, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আমি, মােঃ আবদুন নূর (দুলাল), বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন, ২০১৯-২০ এ সম্পাদক পদে একজন প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার জন্য আমার প্রয়ােজন ছিল ২৮৫২ ভােট। আমি পেয়েছি ২৬৪৯ ভােট। আর মাত্র ২০৩ ভােট পেলে আমি নির্বাচিত হতাম। পরের বছর বিভিন্ন বেড়াজালে আমি নির্বাচন করতে পারিনি। ২০২২-২৩ নির্বাচনে আমি সম্পাদক পদপ্রার্থী । আমি আপনাদের ভােট, সহানুভূতি, ভালবাসা এবং মমত্ব প্রত্যাশা করি। আপনারা আমারা প্রতি মানবিক হবেন, এই আমার প্রত্যাশা। ইনশাল্লাহ, আমিও তার পরিপূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করবাে, এ আমার দৃঢ় এবং অকৃত্রিম অঙ্গীকার ।
আমি এক অনাড়ম্বর সাদামাটা জীবনের অধিকারী। সদা সত্য কথা বলা আমার মায়ের শিক্ষা। পরশ্রীকাতরতার লেশমাত্র আমাকে আচ্ছন্ন করে নাই। বিনয় এবং মাথা নীচু করে চলা আমার মায়ের শিক্ষা। আমি অনেক বড় বড় চেয়ারে বসেছি। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, এসেনসিয়াল ড্রাগস এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সহ অনেক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে ও বৃহত্তম কর্মযজ্ঞে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। আমার স্ত্রী বেগম সুলতানা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোট, হাইকোর্ট বিভাগের একজন ডেপুটি রেজিষ্ট্রার। সৎ থাকার জন্য আমরা পরস্পর পরস্পরকে সহযােগিতা করেছি এবং অনুপ্রাণিত করেছি। আমাদের সারা জীবনের সংগ্রাম ছিল যেন আমাদের সন্তানের রক্তে অসৎ রােজগারের এক ফোটা রক্ত জমা না হয়সহয়তাে সে কারনেই আল্লাহ আমাদেরকে দুটি সুসন্তান দিয়েছে। আমার মেয়ে কানাডার রিজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট লিডারশীপে অধ্যয়নরত। পুত্র আইনের ছাত্র। আমি আবার বলছি আমি সাদামাটা অনাড়ম্বর জীবন যাপন করি । বিলাস বহুল জীবন। আমার পছন্দ নয়। আমি বিনয়ী, কিন্তু ভীতু বা কাপুরুষ নই।
আমি বিশ্বাস করি, যে সময়ে আমার মৃত্যু নির্ধারিত, তার এক সেকেন্ড আগেও আমাকে কেউ মারতে পারবেনা এবং তার এক সেকেন্ড পর পর্যন্তও কেউ আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেনা। সেজন্য যে কোন ক্রান্তিকালে দুঃসাহসিক কাজ করতে যেয়ে পিছু হটার মানুষ আমি নই। স্রোতের অনুকুলে চলা কোন কৃতিত্ব নয়। স্রোতের প্রতিকূলে লড়াই করাই বীরত্ব। ক্ষমতা, অর্থ এবং জনপ্রিয়তার কাঙাল আমি নই। ভাল কাজ করার নেশা আমার মজ্জাগত।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক চেয়ারটি ভাল কাজ করার জন্য একটি উত্তম চেয়ার। এই চেয়ারে বসে অনেকেই অনেক ভাল কাজ করেছেন। চেয়ারকে আলােকিত করেছেন। কেউ কেউ নিজে আলােকিত হয়েছেন। সব মানুষের একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তিনি কাজ করেন। এই চেয়ারকে নিয়ে আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে (1have a definite vision). একজন লােক বার বার একটি চেয়ারে বসলে তিনি কেবল তার মত করেই চেয়ারকে পরিচালনা করেন। তার একক আলােয় চেয়ারটি আলােকিত হয়। কিন্তু ব্যক্তি বদল হলে চেয়ারটি বিভিন্ন রঙে এবং আলােয় উদ্ভাসিত হয় এবং বিকশিত হয়। একটি বাগানে একটি ফুল ফুটলে বাগানটি দৃষ্টিনন্দন হয়না। অনেক ফুল ফুটলেই বাগানটি হয় দৃষ্টিনন্দন । আকাশের এক কোনে একটি তারা ফুটে থাকলে আকাশ পায়না পূর্ণতা। অনেক তারা ফুটলেই আকাশটি হয় তারায় তারায় পর্ণ সুষমামন্ডিত।
পরিশেষে আপনারা বিশ্বাস রাখবেন, আমি দল করি। কিন্তু দলকানা নই। সাদাকে সাদা বলা, কালােকে কালাে বলার সৎসাহস নিয়েই আমার জন্ম হয়েছে। আমি একজন মুক্তচিন্তার মানুষ। যা সত্য বলে মনে করি, তা প্রকাশ করি, অকপটে। অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করি। পরমত সহিষ্ণুতা আমার একটি আদর্শ।
আমি বার পরিচালনা করব একটি স্বচ্ছ এবং দল নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে, একটি আধুনিক বিচারব্যবস্থা এবং সভ্য বাংলাদেশ বুকে নিয়ে। কোন পঙ্কিলতার কাছে আমি নতি স্বীকার করব। আমাদের প্রিয় বার যাতে বিশ্বমান অর্জন করে এবং বিশ্বের একটি শ্রেষ্ঠ বারে পরিণত হয়, এই হবে আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। নির্বাচনের প্রাক্কালে সময়ের সংক্ষিপ্ততার কারনে আপনাদের যাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে ভােট ও সমর্থন চাওয়ার সুযােগ পেলাম না তারা আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
অনুষ্ঠানে এ্যাডভােকেট ইউসুফ হােসেন হুমায়ুন, (আহবায়ক, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এবং ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল) এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি: জনাব এ্যাডভােকেট আনিসুল হক, এম,পি মাননীয় মন্ত্রী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌশুলী), জনাব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ ও মাননীয় মেয়র, ঢাকা দক্ষিন সিটি করপােরেশন, জনাব এ্যাডভােকেট এ, এম, আমিন উদ্দীন, বাংলাদেশর মাননীয় এটর্নী জেনারেল এবং সভাপতি ও সাবেক সম্পাদক সুপ্রীম কোর্ট বার এসােসিয়েসন। জনাব এ্যাডভােকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এবং চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, জনাব এ্যাডভােকেট কামরুল ইসলাম, এম,পি, প্রেসিডিয়াম মেম্বার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এবং সাবেক সফল মন্ত্রী, খাদ্য মন্ত্রণালয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, জনাব এ্যাডভােকেট নজীবুল্লাহ হিরু, আইন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ঢাকা বার এসােসিয়েশন।(চেয়ারম্যান, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। জনাৰ অ্যাডভােকেট নুরুল ইসলাম সুজন, এম,পি, মাননীয় মন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং সাবেক সম্পাদক, সুপ্রীম কোর্ট বার এসােসিয়েসন, জনাৰ অ্যাডভোকেট এম রেজাউল করিম, এম,পি, মাননীয় মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রানালয়,
জনাৰ এ্যাডভােকেট মাহবুব আলী, এম,পি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, বেসারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং সাবেক সম্পাদক, সুপ্রীম কোর্ট বার, জনাব এ্যাডভােকেট এস, এম, মুনীর, বাংলাদেশের অতিরিক্ত এটনী জেনারেল এবং সাবেক সুপ্রীম কোটি বার এসােসিয়েসন, জনাব ডাঃ মােমতাজ উদ্দিন আহমেদত মেহেদী, সাবেক সম্পাদক, সুপ্রীম কোট বার এসোসিয়েসন এবং আহবায়ক, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, বশির আহমেদ, সাবেক সম্পাদক, সুপ্রীম কোর্ট বার এসােসিয়েসন, সানজীদা খানম, সাবেক এমপি এবং কার্যকরী পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।
প্রাক্তন সভাপতিবৃন্দসহ আইন অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বগন এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।