রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

উত্তরাঞ্চলে আবারও পেট্রোল ও অকটেন সংকট 

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৮ মে, ২০২২
  • ২১৪ সময় দেখুন
উত্তরাঞ্চলে আবারও পেট্রোল ও অকটেন সংকট 


আবু সাঈদ অপু, স্টাফ রিপোর্টার,  নীলফামারী থেকে :: 

রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে আমদানী  সংকট দেখিয়ে আবারও নীলফামারীর ৩৩ টি পেট্রোল পাম্পসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ টি জেলার  মানুষ পড়েছে পেট্রোল ও অকটেন সংকটে । তেল সংকটে অনেক  পাম্প বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেল মাসে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের তেল পাম্পগুলোতে দেখা দেয় পেট্রোল ও অকটেন সংকট।

তবে গেল দুই সপ্তাহে সেই সংকট কাঁটিয়ে কিছুটা স্বস্থি ফিরে আসলেও আবারও তেল পাম্পগুলো হয়ে পড়েছে তেল শূন্য।

বিশেষ করে দিনাজপুর,  ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম,  রংপুর, পঞ্চগড়সহ নীলফামারীতে এই সংকট ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে।

দু,একটি পাম্পে সংকটের দোরগোড়ায় ছুই ছুই করলেও অধিকাংশ পাম্পে নোটিশ ঝুলছে তেল নেই। যদিও জনসাধারণ অভিযোগ করে বলছেন পাম্প মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন। তবে জনসাধারণের এই অভিযোগ মানতে নারাজ পাম্প মালিকরা।  তারা বলছেন,  সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতি।

দিনাজপুরের ১৩ টি উপেজলার ৯১ টি তেল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ লিটার পেট্রোল ও ৬৫ হাজার লিটার অটকটেন প্রয়োজন।

যদিও গেল ৩ মাস ধরে জ্বালানী পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ কম ছিলো। শহরের মর্ডান মোড় সুইহারি এলাকার ফিলিং ষ্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,  তেল না থাকায় নোটিশ ঝুলিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  ফিলিং ষ্টেশনের এক কর্মচারী জানান, ঈদের কদিন আগে থেকেই পেট্রোল সংকট চরম  আকার ধারন করেছে। ঈদের আগে ৪০ হাজার লিটার এসেছিলো।  সেগুলো দিয়ে কোন রকম কোন রকম চালাতে হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিন এ পাম্পে দেড় হাজার লিটার পেট্রোল ও ১ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় কোনটিই আর দিতে পারছি না।

দিনাজপুর পেট্রোল পাম্প ওর্নাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, দিনাজপুরের পার্বতীপুর অয়েল ডিপোতে তেল না থাকায় বাঘাবাড়ি ডিপোর তেল দিয়ে কেন রকম চালানো হচ্ছে।

এখন বাঘাবাড়ি ডিপোতেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ সংকট কাঁটাতে উপর মহলে যোগোযোগ অব্যহত রয়েছে।

সার্বিক এ বিষয় নিয়ে পার্বতীপুর যমুনা অয়েল লিমিটেডের  ইনচার্জ মোঃ আহসান জানান, আমরা খুলনা থেকে পার্বতীপুর অয়েল ডিপোতে তেল নিয়ে আসি। যা এখান থেকে সরবরাহ করা হয়।তবে পেট্রোল সরবরাহ কম থাকায় চাপ পড়েছে অকটেনের উপর। তবে কবে নাগাদ এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কাছে কোন তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঠাকুরগাঁওয়েও। জেলা জুড়ে সব পাম্পগুলোতে আগাম কোন ঘোষনা ছাড়াই তেল না থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়ে এই অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে মোটর সাইকেল চালকরা পড়েছেন মহাবিপদে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক জানান, প্রতিদিন এ জেলায় প্রায় ৯০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা। যার মধ্যে পেট্রোল ২৩ হাজর, অকটেন সাড়ে ১৬ হাজার লিটার ও ডিজেলের চাহিদা ৫০ হাজার লিটার।  এখন জেলায় মাত্র ১৪ হাজার লিটার তেল সরবরাহ হচ্ছে।  যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে রংপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়সহ নীলফামারীর সব পাম্পগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এরই স্ব-স্ব জেলা  প্রশাসক কার্যালয়ে সংকট নিরসনে পাম্প মালিকদের সাথে জরুরী বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।

সার্বিক এ বিষয নিয়ে পার্বতীপুর অয়েল ডিপোতে যোগাযোগ করা হলেও কোন সদুত্তর মেলেনি। পাশাপাশি অসংখ্য ট্যাংক লড়ি তেল না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও বর্তমান সরকার এই সংকট নিরসনে কাজ করছে বলেও জানাগেছে।

অপরদিকে একটি সুযোগ সন্ধানী  চক্র এই পরিস্থিতিকে পুজি করে খোলা বাজারে মজুদকৃত তেল বিক্রি করছে লিটার প্রতি ১৫০ টাকা দরে। কেউ কিনছেন বাধ্য হয়ে – আবার কেউবা ফিরছেন খালি হাতে। আর মোটর সাইকেল শূণ্য রাস্তার গল্পতো রয়েছে।

ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও তেল মিলছে না কারও ভাগ্যে।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর