বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

দাবি নিরাপত্তারক্ষীর মাদুরোকে ধরার মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রহস্যময় অস্ত্রের’ ব্যবহার !

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৯ সময় দেখুন
দাবি নিরাপত্তারক্ষীর মাদুরোকে ধরার মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রহস্যময় অস্ত্রের’ ব্যবহার !


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী একটি রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। ওই অস্ত্রের প্রভাবে অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে, কেউ কেউ রক্তবমিও করেছেন। এতে করে মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা বড় বাহিনী পুরোপুরি কাবু হয়ে পড়ে।

ভেনেজুয়েলার এক প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনা তুলে ধরে এ খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ওই নিরাপত্তারক্ষীর বিবরণ শেয়ার করেন।

ওই সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তারক্ষী জানান, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নিজেদের একজন সেনাও না হারিয়ে শত শত সেনাকে পরাস্ত করেছে এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা তিনি আগে কখনও দেখেননি বা শোনেননি।

নিরাপত্তারক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর আগ পর্যন্ত কিছুই বোঝা যায়নি। তিনি বলেন, “আমরা পাহারায় ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশে একের পর এক ড্রোন দেখা যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন আমাদের অবস্থানের ওপর দিয়ে উড়তে শুরু করে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না।”

তিনি আরও বলেন, “কয়েক মুহূর্ত পরেই প্রায় আটটি হেলিকপ্টার আসে। সেখান থেকে ২০ জনের মতো মার্কিন সেনা নেমে আসে। তাদের হাতে বন্দুকের চেয়েও শক্তিশালী কোনো অস্ত্র ছিল।”

নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, “মার্কিন সেনাদের কাছে এমন উন্নত প্রযুক্তি ছিল, যা আগে কখনও দেখিনি বা শুনিনি। এমন কিছুর মুখোমুখি আমরা আগে কখনো হইনি।”

পরবর্তী ঘটনাকে তিনি লড়াই নয়, বরং এক নির্মম হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু করার সুযোগই ছিল না। তারা নিখুঁত নিশানা ও দ্রুততার সঙ্গে গুলি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, প্রতিটি মার্কিন সেনা মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়ছে।”

এরপর ওই রহস্যময় অস্ত্রের ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি। নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “এক পর্যায়ে তারা এমন কিছু দিয়ে হামলা চালায়, যেটা কীভাবে বর্ণনা করব জানি না। একটি প্রচণ্ড শব্দ হয়েছিল। এতটাই জোরাল যে, মনে হচ্ছিল মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে। কেউ কেউ রক্ত বমি করতে থাকে। আমরা মাটিতে পড়ে যাই। নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ওই সনিক অস্ত্র বা যাই হোক না কেন, সেটার আঘাতের পর আমরা আর দাঁড়াতেও পারিনি।”

নিরাপত্তারক্ষীর এই বিবরণ এক্সে শেয়ার করে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট লেখেন, “আপনি যা করছেন তা থামান, আর এটি পড়ুন।”

এই বিবরণ শেয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ৩ জানুয়ারির অভিযানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর আনুমানিক ১০০ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এসব মৃত্যু রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহারের কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর কাছে বহু বছর ধরেই নির্দেশিত শক্তি অস্ত্র বা এনার্জি ওয়েপন রয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলায় যদি তা ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে সেটিই হবে কোনো লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্রের প্রথম প্রয়োগ।

এ ধরনের অস্ত্রে লেজার, মাইক্রোওয়েভ, কণা রশ্মি কিংবা শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এসব অস্ত্রের প্রভাবে রক্তপাত, চলাচলে অক্ষমতা, তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom