বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীবাড়ী ইসলামী ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ঢাকার বার্তা মোদিকে জানাতে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৪ ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় Bigg Boss 20’s ScoutOP Hints At Feelings For ‘Sister’ Love Gill: ‘Usse Pehle Friend Hota Hai Naa…’ | Television News Head coach Zinedine Zidane celebrates first home win as France crush Belgium 4-1 at Nations League | Football News কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও মশক নিধন সামগ্রিক বিতরণ কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন ‘আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’

রোজায় প্রবীণদের যত্ন এবং খাবার ব্যবস্থাপনা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৩২ সময় দেখুন
রোজায় প্রবীণদের যত্ন এবং খাবার ব্যবস্থাপনা


ডা. ঐন্দ্রিলা আক্তার

বৃদ্ধ বয়সে মানুষ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। রোজায় তাই পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে ব্যাপকভাবে অণু এবং কোষ ক্ষয় হতে থাকে। আসলে এটা স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া হলেও এর ফলে মানুষের শারীরিক শক্তি এবং মানসিক কাজের ক্ষমতা কমে যায়। যা মানুষকে শিশুর মত যত্নের উপর নির্ভরশীল করে তোলে। এসময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যায়। শরীর এবং মনে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়, যেমন শরীর কাঁপা, দুর্বল লাগা, রক্তশূন্যতা, কানে কম শোনা, চোখে ছানি পড়া, কোমরে ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, নার্ভের সমস্যা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ, কিডনির অসুখ, ডিমেনশিয়া, আলঝেইমার, ডিপ্রেশন ইত্যাদি।

আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাদ এবং ঘ্রাণের অনুভূতিও কমে যায়। যার ফলে খাবারে অরুচি এবং অনীহা দেখা দেয়। দাঁতের সমস্যার কারণে শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে পারেন না অনেকে। হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের খাবার হজম করতে পারেন না। এসব বিষয় মাথায় রেখে বয়স্কদের খাবার তৈরি করলে তারা তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারেন, ফলে রোজা রাখা তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হয়।তাই রোজায় প্রবীণদের বিশেষভাবে যত্ন প্রয়োজন। আসুন দেখে নেই কীভাবে আমাদের পরিবারের প্রবীণ সদস্যের যপ্তন নিতে পারি।

১. ওষুধের ডোজ এবং সময় ঠিক করতে সাহায্য করা
নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে থাকেন। রোজায় সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয় বলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ খাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় পায় না বলে প্রবীণ ব্যক্তিটি নিজে নিজেই তার ওষুধের পরিমাণ ঠিক করছেন এবং মনমত সময়ে খাচ্ছেন। অনেকে আবার বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে শুনে সে অনুযায়ী ওষুধ খেতে থাকেন। এতে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। কারণ, প্রতিটি মানুষের শারীরিক চাহিদা ভিন্ন। ভিন্ন প্রত্যেকের শরীরের প্রক্রিয়ায়ও। তাই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একই রোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন ওষুধের ডোজ দেওয়া হয়। পরিবারের বয়স্ক সদস্য, যিনি ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাকে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার জন্য সাহায্য করলে রোজা রাখা অবস্থায় কোন জটিলতা হবে না।

২. পানি পানে সাহায্য
বয়স্ক মানুষদের ক্ষুধা-তৃষ্ণা ইত্যাদির অনুভূতি কমে যায়। অনেক কিছু মনে রাখতে পারেন না। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি বা তরল খেতে হবে এটা সব সময় ওনাদের মনে থাকে না। ফলে রোজায় বয়স্ক মানুষদের পানিশূন্যতায় ভোগার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিবারের তরুণ সদস্যরা বয়স্কদের পানি পানির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো যায়। তবে যাদের কিডনির অসুখ রয়েছে, তাদের পানি পানের পরিমাণ চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জেনে নিতে হবে। কিডনি রোগিদের পানি পানের নির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারণ করা থাকে। অতিরিক্ত পানি পান কিডনি রোগির জন্য ক্ষতির কারণ হয়।

৩. খাবার খাওয়ায় উৎসাহ দেওয়া
বয়স্কদের স্বাদ, গন্ধ, দাঁতের সমস্যা, হজমের সমস্যা ইত্যাদির কারণে খাবার খাওয়ায় আগ্রহ কম থাকে। সব রকম খাবার তারা খেতে পারেন না। রোজার সময় বয়স্কদের স্বাদ এবং হজম উপযোগী খাবার মেন্যু তৈরি করলে তারা ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরিতে ঠিক মতো খেতে পারেন। ফলে না খেয়ে বা কম খেয়ে দুর্বল হয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। তাদেরকে তাদের জন্য তৈরি মেন্যুর স্বাদ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলে উৎসাহিত করলে তারা খাবারে আগ্রহ ফিরে পায়। ফলে রোজায়ও তাদের দৈনিক ক্যালরির চাহিদা ঠিক থাকে।

৪. রোগভিত্তিক খাদ্য
একজন সুস্থ মানুষের খাবার তালিকা আর একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার তালিকা এক হয় না। তাই বয়স্ক মানুষদের রোজার খাবার তালিকা তাদের চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করে নিলে রোজায় অসুস্থ হবার ঝুঁকি কমে যায়।

৫. হালকা শরীর চর্চা
বয়স্ক মানুষের শরীরে রক্ত চলাচলের গতি কম থাকে। ফলে হাত পায়ের বোধ শক্তি কমে যায়। আবার রক্তের কম গতির কারণে শরীরের সব জায়গায় পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা অনুভূত হয়। ডায়াবেটিস রোগিদের প্রতিদিন হাঁটা বা শরীর চর্চা করতে হয়। রোজার সময় প্রতিবার খাবার পর পনের মিনিট করে হাঁটলে উপকার হয়। সকালে বা ইফতার শেষে নামাজ পড়ে চেয়ারে বসে কয়েকটি সহজ ইয়োগা অনুশীলন করলেও রোজায় শরীর ভালো থাকে। পরিবারের সদস্যরা হাঁটার কথা মনে করিয়ে দিলে এবং শরীর চর্চার সময় পাশে থেকে সাহায্য করলে তারা উৎসাহ পায়। সকালে বা রাতে প্রতিদিন কিছু সময় তাদের মেডিটেশন করতে উৎসাহ দিলে তাদের মন শান্ত থাকবে।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম
পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। তবে বয়স হলে অনেক মানুষই একটানা ঘুমাতে পারেন না। মাঝে মাঝে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তাদের জন্য ঘুম উপযোগি পরিবেশ রাখতে হবে। ঘুমের সময় উঁচু আওয়াজে টিভি দেখা, মোবাইল চালানো, বাতি জ্বালিয়ে রাখা, জোরে জোরে কথা বলা এসব থেকে সচেতন থাকলে পরিবারের বয়স্ক সদস্যটি আরামে একটানা কয়েক ঘন্টা ঘুমাতে পারেন।

৭. এক সঙ্গে সময় কাটানো
অনেক পরিবারে দেখা যায় বয়স্ক সদস্যদের খাবার তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রবীণদের সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি দরকার তা হল পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্য। পারিবারিক সান্নিধ্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্রধান ওষুধ। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সাথে ইফতার এবং সেহরি করা, তাদের সাথে নিয়ে ইবাদত-বন্দেগী ও গল্পগুজব করলে তাদের মন এবং শরীর ভালো থাকে। করোনার এই দুঃসময়ে ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রবীণ মানুষরা মসজিদ বা বাজারে পরিচিতজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে একাকিত্ব থেকে তাদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের যত্ন, সঙ্গ এবং ভালোবাসা পেলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

রোজায় প্রবীণদের খাদ্যতালিকা
আসুন জেনে নেই রোজায় বয়স্কদের ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরির উপযোগী খাবারের তালিকা

১. ইফতার
ক. পানীয় এবং খেজুর: রোজা ভাঙতে একটি খেঁজুর এবং এক কাপ পানিই যথেষ্ট। খেঁজুরে প্রচুর পটাশিয়াম এবং ক্যালরি থাকে। তাই সারাদিন রোজার ক্লান্তি কাটাতে খেঁজুর খুব উপকারি। ফ্রুকটোজের মাত্রাও বেশি থাকে তাই বয়স্কদের একটি খেঁজুর খাওয়াই ভালো। বেশি খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এরপর একগ্লাস ডাবের পানি বা বেলের শরবত খেলে তা তৃষ্ণাও মেটাবে আবার হজমেও উপকারি। ইফতারে কোন কোন দিন এক গ্লাস সিটরাস ফলের (টকজাতীয় ফল) জুস যেমন, কাঁচা আমের শরবত, লেবু-পুদিনা পাতার শরবত ইত্যাদি দেওয়া যায়। সিটরাস জুস শরীর পরিষ্কার (ডিটক্সিফিকেশন) হতে সাহায্য করে।

খ. দেশী ফল: এক বাটি রসালো নরম ফল যেমন তরমুজ, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে, সফেদা, কাঁঠাল, আঁতা, গাব, ইত্যাদি বয়স্কদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যজনক হতে পারে। এসব ফল নরম হওয়ায় বয়স্করা চিবিয়ে খেতে পারেন। ফলে খাওয়ার স্বাদও পান আবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলসের চাহিদাও পূরণ হয়। বিদেশি বাহারি ফল প্রিজারভেটিভ দিয়ে সংরক্ষন করা থাকে। খাওয়ার সময় এই প্রিজারভেটিভ শরীরে যায়। দেশে যে ঋতুতে যে ফল পাওয়া যায় এরকম টাটকা দেশি ফল বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি হয়।

গ. অঙ্কুরিত মুগ: প্রতিদিন ইফতারে এক টেবিল চামচ পরিমাণ বারো ঘন্টা ভেজানো অঙ্কুরিত মুগ বয়স্কদের স্নায়ুর জন্য খুবই উপকারি। কারণ এতে রয়েছে স্নায়ুর জন্য দরকারি পুষ্টি উপাদান ভিটামিন-বি, জিংক এবং আয়রন, কপার, ম্যাগনেসিয়ামসহ প্রায় সব ধরনের ভিটামিন আর মিনারেলসের সমাহার। এটি নরম হওয়ায় বয়স্করা সহজে খেতে পারেন।

ঘ. মাল্টি গ্রেন বা নানারকম শস্যদানা: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হজমশক্তি কমে যায়। অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিকসহ পেটের নানান অসুখ দেখা দেয়। তাই বয়স্কদের ইফতারে তেলে ভাজা খাবার খেলে তাদের হজমের সমস্যা বেড়ে যায়। ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে বয়স্কদের জন্য উপযোগি এবং পুষ্টিকর বিভিন্ন মাল্টি গ্রেনসমৃদ্ধ খাবার রাখা যায়। যেমন বিভিন্ন সবজি দিয়ে চালের সুজি রান্না করা যায় ভেজিটেবল পোরিজ। আবার কাউন, যব, ভূট্টার গুড়ার সাথে বিভিন্ন রকম বাদাম দিয়ে একটা পোরিজ করে দেওয়া যেতে পারে। এই পোরিজে নানারকম শস্য, বাদাম ও বীজ থাকায় সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়।

ঙ. কোন কোন দিন ইফতারে বৈচিত্র্য আনতে মাল্টি গ্রেইন কুকি বা মাফিন, একবাটি ডিম বা মুরগির স্যুপ, এক টুকরো চিনিছাড়া বা কমচিনিযুক্ত কালো চকলেট, এক কাপ টক দই দিলে বয়স্করা আনন্দ নিয়ে খেতে পারেন। এসব খাবার নরম হওয়ায় খেতে কষ্টও হয় না, আবার সারাদিন রোজা শেষে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হয়।

ইফতারে বয়স্কদের জন্য নরম এবং হজম উপযোগি খাবার পরিবেশন করলে তারা সবার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারেন। মনে রাখবেন, ইফতারে সাত আট রকম খাবার, নানা রকম ভাজাপোড়া, তেল মসলায় রান্না করা ভারি খাবার কখনোই বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি নয়।

২. প্রবীণদের রাতের খাবার
ক. লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটির সাথে এক বাটি সবজি, দেশি মাঝারি আকারের মাছ বা মুরগির মাংস রাতের খাবার হিসেবে দেওয়া যায়। লাল চালে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বয়স হলে চোখের সমস্যা, দাঁতের সমস্যা থাকে তাই ছোট মাছের কাঁটা বেছে খাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবার বড় বড় তৈলাক্ত মাছ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে তাই মাঝারি আকারের সুস্বাদু দেশি মাছ হল বয়স্কদের জন্য ভালো প্রোটিনের উৎস।

খ. শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা ক্যারোটিন। রাতের খাবারের সাথে দেড় টেবিল চামচ পরিমাণ শাক খেলে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

গ. নরম সবজি খিচুড়ির সঙ্গে কালো জিরা, সরিষা বা সয়াবিন ভর্তা, একটা দেশি মুরগির ডিম রাতের খাবার হিসেবে একজন বয়স্ক মানুষের সব ধরনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। এসব খাবার খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি সহজে হজম হয়। খাওয়া শেষে ছোট এক পিস পুডিং দিলে তাদের খাওয়ার তৃপ্তি পরিপূর্ণ হয়।

ঘ. কোন কোন দিন অল্প ঘিয়ে রান্না করা ভেজিটেবল পোলাওয়ের সাথে মুরগির মাংস হতে পারে তাদের রাতের খাবার।

৩. প্রবীণদের সেহরি 
ক. মিষ্টি আলু ও স্টিমড মাছ: সেহরিতে কয়েক টুকরা সেদ্ধ মিষ্টি আলুর সাথে কয়েক টুকরো স্টিম ফিস বা ভাপে রান্না করা মাছ এবং এক বাটি রান্না করা সবজি বয়স্কদের জন্য সহজে হজমযোগ্য একটি সেহরি। মিষ্টি আলুতে আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা বয়স্কদের সারাদির রোজায় সচল থাকার শক্তি দেয়।

খ. স্টিমড সালাদ এবং স্যুপ: এক বাটি পালং বাটার (পালং শাক ব্লেন্ড করে বাটার দিয়ে স্যুপের মতো রান্না করে), কয়েক পিস হাড়ছাড়া মুরগির মাংসের সাথে এক বাটি ভাপ দেওয়া সালাদ আর এক কাপ টমেটোর স্যুপ বয়স্কদের জন্য উপযোগি একটি পুষ্টিকর সেহরি মেন্যু। কাঁচা শাক-সবজিতে প্রচুর আঁশ এবং ব্যাকটেরিয়া থাকে। হজমের দুর্বলতার কারণে বয়স্কদের কাঁচা সালাদ না দিয়ে সালাদ হালকা সিদ্ধ করে তার সাথে গোল মরিচ গুড়ো, কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেতে দিলে সহজে হজম হয়। এসব হালকা হজম উপযোগি কিন্তু পুষ্টিকর খাবারে প্রচুর শর্করা আর আমিষের পাশাপাশি প্রচুর ভিটামিন ও ক্ষনিজ থাকে যা সারাদির রোজা থাকা অবস্থায় শক্তির যোগান দেয়। ফলে রোজা রেখে পানিশূণ্যতা বা দুর্বল হয়ে পড়ার সমস্যা সৃষ্টি হয় না।

গ. দুধ কলা: অনেক বয়স্ক মানুষই সেহরিতে খুব অল্প খেতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য এক বাটি চিকেন স্যুপ আর তারপর এক কাপ ভাতের সাথে দুধ-কলা হতে পারে সহজ অথচ পুষ্টিকর একটি সেহরি।

রোজা প্রবীণ বয়সে রোগব্যধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে রোজার মাধ্যমে অনেক অসুখের প্রাকৃতিকভাবে চিকিৎসা হয়ে যায়। সুষম হালকা খাবার, নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ভালো চিন্তা, ভালো কাজ, ভালো ব্যবহার, পারিবারিক সান্নিধ্য প্রবীণদের রোজা রাখাকে সহজ করে এবং এতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে শরীর হালকা, ঝরঝরে এবং রোগমুক্ত হতে পারে।

সারাবাংলা/আরএফ





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর