শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

ডাকাত মজিদের নেতৃত্বে কুতুবদিয়ায় ৩০ একর প্যারাবন ধ্বংস

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮০ সময় দেখুন
ডাকাত মজিদের নেতৃত্বে কুতুবদিয়ায় ৩০ একর প্যারাবন ধ্বংস

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চর ধুরুং এলাকায় বন বিভাগের ৩০ একর জমির প্যারাবন ধ্বংস করে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সহায়তায় ডাকাত মজিদের নেতৃত্বে চলছে লবণচাষ। যার ফলে উজাড় হয়েছে বিশাল প্যারাবন। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বন বিভাগ। বিগত দুই মাস ধরে ধুরুং ইউনিয়নের মনছুর আলী হাজির পাড়ার মোহাম্মদ কালুর পুত্র ভূমিদস্যু আবদুল মজিদ তার ভাই ফারুক মেম্বারসহ ২০/২১ জনের একটি সিন্ডিকেট বন বিভাগের বনায়নকৃত ভূমি দখল করে লবণ মাঠ করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে ভূমিদস্যু মজিদ বাহিনীর একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে বন বিভাগের বনায়নকৃত হাজার হাজার বাইন আর ঝাউগাছ কেটে বিক্রি করেছে এই চক্র।

কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের।

এ ব্যাপারে মজিদ ও ফারুক মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের রোপনকৃত বৃক্ষ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে এই ভূমিদস্যু চক্র। এই চক্রের হাতেই নিধন হয়েছে হাজার হাজার বাইন ও ঝাউ গাছ। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে দ্বীপাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ। গাছ ও প্যারাবন কেটে লবণ চাষের মাঠ তৈরি করাকে পরিবেশের জন্য হুমকি মনে করছে স্থানীয় জনগণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা এবং মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করার পরেও এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যু আবদুল মজিদ এবং তার ভাই ফারুক মেম্বার।

প্যারাবন ধ্বংসকারী আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে থানায় বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও চোরাচালানের মামলা রয়েছে। একই অপরাধে ডাকাত আবদুল মজিদ বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন। এছাড়াও এলাকার স্থানীয় নিরীহ মানুষের ২৫ একর জমি জোরপূর্বক দখল করে লবণ চাষ করে যাচ্ছে এই চক্র। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না সাধারণ জনগণ। উল্টো মজিদ ও ফারুক মেম্বার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে মজিদ ও ফারুক মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে এই ভূমিদস্যু ও ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের সচেতন জনগণ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে চর ধুরুং মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের জমি বন বিভাগের গ্যাজেটভূক্ত করে বনায়ন করা হয়। বন বিভাগ দ্বীপ রক্ষার জন্য হাজার হাজার ঝাউ আর বাইন চারা রোপন করে। এ বনায়ন নিধন করে মজিদ আর ফারুক বাহিনী কতৃক পরিচালিত লবণমাঠের কারণে বতর্মান

বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বেদখলকৃত জমি জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা। বন মন্ত্রনালয় উক্ত ভূমি বন বিভাগের নামে গ্যাজেটভূক্ত করার পর বনায়ন করেছে। জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে।

গত ১৬ নভেম্বর রবিবার কুতুবদিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সরঞ্জাম জব্দ করেছে। তা সত্বেও ডাকাত মজিদ ও ফারুক মেম্বার দখলকৃত ভূমি নিজেদের কুক্ষিগত করে রেখেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ ভূমিদস্যু মজিদ ও তার ভাই ফারুক মেম্বার তার দলবল নিয়ে এখনো ৩০ একর ভূমি জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের আওতায় দখল করে রেখেছে। এই ভূমিদস্যু চক্রকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সাধারন জনগণ।

চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং দখলকৃত জমি উদ্ধার করে পুনঃরায় বনায়নের আহবান জানিয়েছে সাধারণ জনগণ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর