স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টা, ফসল কেটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফুলছেন্না এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাজী আব্দুর রহমান মন্টু। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী আব্দুর রহমান মন্টু বলেন, মেলান্দহ টিটিসি সংলগ্ন ফুলছেল্লাহ মৌজায় তার ক্রয়কৃত ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। বিআরএস খতিয়ান নং-২৬৬ ও দাগ নং-২৭৭ (সাবেক দাগ ২০১) অনুযায়ী প্রায় ৩৭ বছর ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী ওই জমির প্রতি কুদৃষ্টি দিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমার ভুট্টাক্ষেত থেকে ফসল কেটে নেওয়া হয়। পরে সেখানে মাটি ভরাটের চেষ্টা চালানো হয়। আমরা বাধা দিলে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
ভুক্তভোগী মন্টু জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রানা। তিনি বলেন, আমরা চাকরিজীবী হওয়ায় বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকি। এই সুযোগে আমাদের জমিতে জোরপূর্বক মাটি ফেলা হয়েছে। আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
এ সময় আরও এক ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, আমাকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এর সঠিক বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুরুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ (জামালপুর-৩) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল খুদে বার্তায় বলেন, আমাদের কারোরই অন্যায় করার কোন সুযোগ নাই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে সকলকেই বিরত থাকতে হবে। কারো অন্যায় কর্মকান্ডের দায় দল নেবে না।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।