বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

কালিয়াকৈরে এক ড্রাম কালো পানিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরগি ড্রেসিং, মানুষ ক্যান্সার জীবাণুর ঝুঁকিতে

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ২৪৮ সময় দেখুন
কালিয়াকৈরে এক ড্রাম কালো পানিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুরগি ড্রেসিং, মানুষ ক্যান্সার জীবাণুর ঝুঁকিতে

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুরে)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈ উপজেলার সদর বাজারসহ মুরগি পট্টিতে ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই ড্রামের কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন ক্রেতারা।
শনিবার সকালে ৮টা ৫৫ মিনিটে দেখা যায়, টিনের চালার নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি ড্রেসিং চলছে। প্রথম একজন শ্রমিক নীল রঙের ড্রামের পাশে দাঁড়িয়ে লম্বা লাঠি দিয়ে গরম পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা-পানিতে একাকার। মেঝেতে বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে, খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে জীবন্ত মুরগি, আরেকজন কর্মচারী ড্রামের পানিতে মুরগি ধুচ্ছেন। পুরো জায়গাটি নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে। এক ড্রামে ৩০০ মুরগি, পানি বদলানোর বালাই নেই।
সরেজমিনে সদর বাজারসহ মুরগি পট্টিতে গিয়ে দেখা যায় ১৫-২০টি দোকানে একই চিত্র। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হচ্ছে। সকাল ৭টায় গরম করা পানি দিয়েই সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০-৩০০ মুরগি ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে পানি কালো হয়ে যায়, ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে টেকা দায়।
এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ঘন ঘন পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়াইয়া থাকে। সকালের পানিই সারাদিন চালাই। সবাই তো এমনে করে।
বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, চোখের সামনে দেখতেছি কালো পানিতে মুরগি চুবাইতেছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়া আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়া ধুই। তবুও ভয় লাগে। বাচ্চারা খায়। এইভাবে রোগজীবাণু ছড়াইতেছে।
গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন বাজারের সব দোকানেই একই অবস্থা। উপায় নাই দেইখা কিনতে হয়। প্রশাসন যদি নিয়মিত দেখত, তাহলে এই সাহস পাইত না।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও কলেরার জীবাণু সহজেই ছড়ায়। একটা অসুস্থ মুরগির জীবাণু বাকি সব মুরগিতে যায়। এই মাংস খেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, এমনকি কিডনি বিকলও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
উপজেলা স্যানিটারী বলেন, ফেসবুকের ছবি দেখেছি। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে অভিযান চালাব। একই পানি সারাদিন ব্যবহার করলে দোকান সিলগালা ও জরিমানা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। প্রানী সম্পদ অফিসার কে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom