সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

গ্যাস সুবিধা পেতে যাচ্ছে নীলফামারীসহ ৩ জেলার মানুষ 

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৫২ সময় দেখুন
গ্যাস সুবিধা পেতে যাচ্ছে নীলফামারীসহ ৩ জেলার মানুষ 


 

আবু সাঈদ অপু, স্টাফ রিপোর্টার,  নীলফামারী :: 

অবশেষে গ্যাস সুবিধা পেতে যাচ্ছে নীলফামারীসহ ৩ জেলার মানুষ। দীর্ঘ দিনের এই দাবি পূরনের এমন বাস্তবতা দেখে বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুফল প্রত্যাশীরা।ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬৫ ভাগ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালকরা।

আশা করা হচ্ছে আগামী ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই এই সুবিধা পাবে নীলফামারীর শুধুমাত্র সৈয়দপুরসহ বগুড়া ও রংপুর।

তবে আনন্দ আর উচ্ছাসের গণমানুষের দাবি পাশাপাশি গ্যাসের  সংযোগ শুধু মাত্র সৈয়দপুর নয় ;  নীলফামারীর ৬ টি উপজেলার মানুষ পেতে চায় এই সুবিধা।

আর সেজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বাকি  ৫ উপজেলার পৌরবাসী। বিশেষ করে নীলফামারী সদর , ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার  পৌরবাসীরা।

প্রকল্পের তথ্য অনুযাযী,  বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বেশ জোড়ে-সোড়েই এগিয়ে চলছে।  ইতোমধ্যে প্রকল্পের শতভাগ কাজের মধ্যে ৬৫ ভাগ কাজেই প্রায় শেষ প্রান্তে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পাবে নীলফামারীর সৈয়দপুর নগরবাসী।

তথ্য আরও বলছে,  সৈয়দপুর অংশের ৬ কিলোমিটার দৈঘ্যের পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলমান রযেছে।

ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ শেষ প্রান্তে। বাকি কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালকরা । প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারীরা বানিজ্যিক শহর হিসেবে খ্যাত এই নগরীতে কল-কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছেন নীলফামারী জেলা চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ডাবলু।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেয়া বৃহৎ এই মেগা প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ৩০ ইঞ্চি গ্যাস নির্গত বা সঞ্চালন লাইন বসানো হচ্ছে।

আপাতত দৃষ্টিতে কাগজে-কলমে প্রকল্পের  মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

তবে গ্যাস লাইন সংযোগের রুটম্যাপ অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা জমির উপর গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনের যাবতীয় সরজ্ঞাম বসানো হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন যে কোন জায়গায় স্থাপন করা হচ্ছে সেন্ট্রাল গ্যাস সাপ্লাই  বা সিজিএস ষ্টেশন।  তবে সৈয়দপুর অংশের ৬ কিলোমিটার পাইপ লাইন এবং গ্যাস সাপ্লাই স্টেশন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ একর পাইপ লাইন বসানোর জন্য আর বাকি ৩ একর থাকছে গ্যাস সরবরাহ ষ্টেশনের জন্য। প্রতিটি গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর জন্য ২৪ ফুট প্রশস্তের জায়গায় মাটির ৮ ফুট নিচ দিয়ে গভীর এই পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে।

বর্তমান সরকারের মেগা এই উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মষজ্ঞের কাজের আগ্রতি স্বচোক্ষে দেখতে সরজমিনে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের চিকলী ঘুরে দেখা গেছে, আবাদযোগ্যতার উর্কিবর শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে ধান ক্ষেতের বুক চিরে বসানো হচ্ছে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন। আর এতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তিসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। অর্থাৎ বলতে গেলে গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনে শ্রমিক আর প্রকৌশলীদের নিরবিচ্ছিন্ন কর্মতপরতা যেন প্রান এনে দিয়েছে পুরো এলাকায়।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার মূলক বৃহৎ এ মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে কথা হয় প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আরিফুল ইসলামের সাথে।  তিনি জানান, করোনার কারনে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনের কাজ দেরিতে শুরু হলেও ; খুব দ্রুত গতির সাথেই এগিয়ে চলছে গ্যাস লাইন স্থাপনের কর্মষজ্ঞ।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬৫ ভাগ কাজ শেষ প্রান্তে আসায় বাকি ৩৫ ভাগ কাজ প্রকল্পের মেয়াদেই মেগা এই প্রকল্পের কর্মষজ্ঞ ২০২৩ সালে জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে।

তবে আশা করা হচ্ছে গ্যাস সঞ্চালন শুরু হলে  নীলফামারীর সৈয়দপুর-রংপুর অঞ্চলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশপাশি বিনিয়োগকারীরা সম্প্রসার ঘটাবে ব্যবসা-বানিজঢের। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে সরকার ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড নামের একটি কোম্পানী।

তবে নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড গ্যাস সঞ্চারন পাইপলাই বসানো হলে আর বিনিয়োগকারী আগমনের পাশাপাশি প্রায় আর ২৫ হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর