রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়মের গোঁমড় ফাঁস

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২
  • ২৩৩ সময় দেখুন
নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়মের গোঁমড় ফাঁস


আবু সাঈদ অপু,  স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী থেকে :: 

গেল মাসের ৫ এপ্রিল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক  ও নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন। নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কর্তপক্ষের পাসপোর্ট প্রদানের কথা ছিল ২৭ এপ্রিল। তিনি ব্যাক্তগত কাজে ব্যস্ত থাকায় তার বিশ্বস্ত ব্যাক্তি দ্বারা পাসপোর্টের খোজ-খবরে জানতে গেলে, তথ্যগত ভুলের কারণে সার্ভার তার পাসপোর্টটি আটকে দিয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।  

এ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মাথায় তার মুঠোফেন ০১৭১২-৫৯৩০১৬ নাম্বরে পাসপোর্টের সাকসেসফুল নোটিফিকেশনের ম্যাসেস আসে। দীর্ঘ ৩৬ দিন পর তার কাছে সাকসেসফুল নোটিফিকেশন আসলো কিভাবে ? এ প্রশ্নের জবাব জানতে আরিফ হোসেন মুন ১০ মে  মঙ্গলবার দুপুরে  দুপুরে নীলফামারী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোতাহার হোসাইনের কক্ষে জেলার কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রেনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রবেশ করেন।

 এরপর তিনি অফিসের সহকারী পরিচালক মোতাহার হোসাইনের কাছে জানতে চান ? তার পাসপোর্ট আবেদনের তথ্য ভুল থাকলে মুঠোফেনে ম্যাসেজ আসলো কি-ভাবে ?। এ প্রশ্নের জবাবে সহকারী পরিচালক মোতাহার হোসেইন তার এই কর্মকান্ডের দায়ভার চাপালেন এভাবে- বলেন , পাসপোর্ট আফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে আবেদনের তথ্যগত ভুল ধরার ক্ষমতা নেই। তথ্যগতভুল ধরার ক্ষমতা রয়েছে একামাত্র তথ্য সংগ্রহকারী ডিভাইস বা সার্ভারের। এ কারণে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে জঠিলতার সৃষ্টি হয়ে থাকে।

এ সময় অফিসের অনিয়ম-দুনীতি’র অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়ে ছিলেন অনেক পাসপোর্ট আবেদনকারীরা। এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, এ অফিসে হায়রানির শিকার চিরাচারিত নিয়ম। পাসপোর্ট আবেদনকারী সৈয়দপুর উপজেলার শহরের সাংবাদিক পিকে সাইদুল উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচছারিতা ও অনিয়ম-দুনীতি’র শিকার অমিও। আমিও দীর্ঘদিন ধরে বাদ এবং ব্যাথায় ভুগছি। তিনি উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতে যেতে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনে আবেদন করে দীর্ঘদিন ধরে নানা তথ্য প্রদানে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পাসপোর্টধারীদের হায়রানি শিকার বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

আরিফ হোসেন মুন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমি সরকারি নির্ধারিত ফি- ৫ হাজার ৭৫০ টাকা প্রদান করে ই-পাসপোর্টের আবেদন করেছি। পাশাপাশি তথ্যগত ভুল থাকলে তাদের উচিৎ আবেদনের সময় তা জানিয়ে দেয়া। তা  না করে ৩৬ দিন পর আমার আবেদন আটকে রাখা হলো কি অনৈতিক কারণে?

এ রকম আর কোন পাসপোর্ট আবেদনকারী হয়রানীর ও দুর্নীতির শিকার না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতনও কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ সময় তিনি আরোও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি অফিসে নির্দেশনা জারি করলেও কতপিয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা তা আমলে নিচ্ছে না। কিছু-কিছু প্রতিষ্ঠানের এসব কর্মকান্ডের কারনে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্ত্তি  ক্ষুন্ন হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর