বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

মতিঝিলে রাস্তা ভাড়া দিয়ে রমরমা ব্যবসা – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ২১৪ সময় দেখুন
মতিঝিলে রাস্তা ভাড়া দিয়ে রমরমা ব্যবসা – Corporate Sangbad


চাঁদার ভাগ পায় পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা

হেলাল সাজওয়াল: রাজধানীর বানিজ্যিক এলাকা খ্যাত মতিঝিলের ফুটপাত এবং রাস্তা দখল করে ভাড়া দিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। হকারের রুটি রুজির কথা বলে মানবিক আবেগকে পুজি করে একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিয়োগকৃত লোক দিয়ে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব অঙ্ক স্থান ভেদে দোকান প্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।

সূত্রমতে জানা গেছে পুলিশের হিসাবে মতিঝিল এলাকায় ১২০০ হকার থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৩০০০ দোকান রয়েছে এসব দোকান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০০০(ষাট হাজার ) থেকে ১০০০০০( ১লক্ষ টাকা) চাদা আদায় হয়। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। এদের প্রত্যেকেই চাঁদাবাজির শিকার হয়ে আসছেন। লাইনম্যানরা এসব হকারের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। তবে এসব লাইনম্যানদের নেপথ্যে যারা আছেন তারা আড়ালেই থেকে যান সব সময়।

ভুক্তভোগিদের কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এসব চাদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই হকারদের ওপর নেমে আসে নানা রকম হয়রানি। বহিরাগত ভেরিফাইয়ের নামে জেল জরিমানা ছাড়াও অপমান লাঞ্ছনা রোজকার ব্যাপার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার এই প্রতিবেদককে জানান, লাইনম্যানদের দাপটে আমরা কেউ কথা বলতে পারি না নিয়মিত চাঁদা দিয়েও সব সময় ভয়ে জড়সড় থাকতে হয়। কারন পান থেকে চুন খসলেই রয়েছে পুলিশি হয়রানি, জানা যায় এসব লাইনম্যানদের সাের্স ও পুলিশের রয়েছে দহরম মহরম সম্পর্ক।

পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের উর্দ্ধতন নেতাদের সাথে নিয়েই চলে এসব চাদাবাজি। মতিঝিলের কয়েকটি এলাকার ফুটপাত ঘুরে অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রতিদিনই তারা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। হকার নেতারা জানান, চাঁদাবাজরা গড়ে প্রতি হকার থেকে ৩০০ টাকা আদায় করছে বর্তমানে।

হকাররা অভিযোগ করেন, এ চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন অনেকেই যাদের চেনেন না। তবে যারা সরাসরি তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন তাদের তারা চেনেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকা ভাগ করে পুরো মতিঝিলকে ১২ টি স্পটে ভাগ করে একেক এলাকা থেকে একেক জন চাদা আদায় করে থাকে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় করছেন সাইফুল মোল্লা ও তার ছেলে শিবলু, কলিম উল্লাহ এবং দুলাল। মতিঝিল শাপলা চত্বরের বাম পাশ থেকে চাঁদা আদায় করছে, হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে ওয়াবদা অফিস পর্যন্ত আজাদ(কাশেম), আলিকোর সামনে সাদেকের বউ, সোনালী ব্যাংকের সামনে মকবুল ও শহীদ।

আরামবাগ পুলিশ বক্সের এক সদস্য এদের সহায়তা করেন বলে অভিযোগ আছে। রূপালী ব্যাংক হেড অফিসের সামনে চাঁদা আদায় করছে পবন এবং তাজু ও তার ছেলে বাবলু। বকচত্বর এলাকায় সামনের রাস্তায় মান্নান, নুরুল,জীবন বীমার সামনে কালা কাশেম ও ইউসুফ। বিমান অফিসের সামনে হেলাল অগ্রণী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় আনিস স্টক এক্সচেঞ্জ এর সামনে সেলিম ।

এ ব্যাপারে মতিঝিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুজন এই প্রতিবেদককে জানায়, আমরা প্রতিনিয়ত রাস্তা থেকে হকারদের দোকান সড়িয়ে দেই । পরক্ষনেই হকাররা আবার দোকান সাজিয়ে বসে । আমাদের কিছুই করার থাকেনা । প্রতিদিন দোকান সড়িয়ে দিলেও কোন অবস্থাতেই রাস্তায় দোকান বসানো বন্ধ করা যাচ্ছে না ।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর