ইউনাইটেড প্রতিবেদক
একটি রেস্তোরাঁয় ৪৯৫ টাকা খরচ করে ইএফডিতে (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) ভ্যাট দিলেন ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। আর তাতে পুরস্কার হিসেবে জিতে নিলেন ৫০ হাজার টাকা। মোহাম্মদ ইকবাল নামে এক ক্রেতার হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলেন দিলেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (দক্ষিণ) কমিশনার ডা. এসএম হুমায়ুন কবীর।
গতকাল কমিশনারেটের সম্মেলন কক্ষে তিনি চেক হস্তান্তর করেন। এ সময় অতিরিক্ত কমিশনার এসএম সোহেল রহমান, প্রমীলা সরকার, ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পল্টন এলাকায় হোটেল কস্তুরী রেস্তোরাঁয় ২৯ মে দুপুরের খাবার হিসেবে সাদা ভাত, মুরগি, করোলা ভাজা আর ডাল খেয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল নামের ঐ ক্রেতা। খাওয়া শেষে ইএফডিতে বিল দিয়েছেন ৪৯৫ টাকা এবং এ টাকার সাথে ভ্যাট বাবদ তাকে আরো ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা দিতে হয়েছে। মে মাসের ভ্যাট চালানের ওপর জুনের ৫ তারিখ লটারি হয়েছে। সম্প্রতি আবারো ঐ কস্তুরীতে খেতে গিয়েছেন সেই ক্রেতা। পরে তাদের কাছে থাকা এনবিআর ঘোষিত মে মাসের লটারির নম্বরের সঙ্গে তাকে পূর্বে দেয়া চালান মিলিয়ে দেখেন তিনি। যাতে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জিতে যান তিনি। পরে প্রমাণসহ বিষয়টি কমিশনারেটে দাখিল করলে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয় তাকে।
অনুভূতি ব্যক্ত করে এই ব্যবসায়ী গণমাধ্যমকে বলেন, ৪০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে আসছি। প্রথমবার ভ্যাট দিয়ে এমন পুরস্কার পেয়ে খুবই খুশি। পুরস্কার আমার কাছে বড় নয়, বড় হলো সম্মান দেয়া। ইএফডি কেনাকাটায় ভোক্তাদের এমন সম্মান দেয়ায় তিনি এনবিআরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইকবাল সম্প্রতি চালানসহ পুরস্কারের জন্য আবেদন করেন। পুরস্কার নীতিমালা অনুযায়ী, ইনভয়েস নম্বর, চালানের কপি ও আইডি যাচাই শেষে আজ পুরস্কারের চেক দেয়া হয়েছে। ভ্যাট দক্ষিণ কমিশনারেটের আওতায় এর আগে রাশেদ খান নামে এক চাকরিজীবী দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জিতেছেন। তিনি মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে ১৫ টাকা ভ্যাট দিয়ে এই ৫০ হাজার টাকা জিতেছেন।