শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে: ফখরুল

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৯৩ সময় দেখুন
খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে: ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেট

ঢাকা: এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।’

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এর আগে করোনা জটিলতায় ৫৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি পাঁচ ব্যাগ রক্ত নিয়েছিলেন। এই বয়সে উনার এই রোগ খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই উনাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত ১২ অক্টোবর নতুন উপস্বর্গ নিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সে সময় তার একটি বায়োপসি করা হয়।’

এরপর ১৩ নভেম্বর তাকে আবার হসাপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অ্যান্ড্রোসকপি করা হয়। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েও তাকে স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা এ দেশে সম্ভব না। তার মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে ট্রান্সফার করার পরামর্শ দিয়েছেন। ম্যাডাম এমন এক পর্যায়ে আছেন, যেটা সমাধানযোগ্য। কিন্তু সময়োপযোগী চিকিৎসা না পেলে উনি যে কোনো মুহূর্তে এমন এক জায়গায় যেতে পারেন, যখন কোনো চিকিৎসাই কার্যকর হওয়ার সুযোগ থাকবে না’- বলেন মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করেন। দুইটি শিশু সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর চোখ এড়িয়ে ঢাকায় আসার কয়েকদিন পরই তিনি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং স্বাধীনতার সূর্য ওঠা পর্যন্ত বন্দি থাকেন।’

ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এই মহিয়সী নারী গ্রাম থেকে গ্রামে, বন্দরে বন্দরে চারণ কবির মতো দীর্ঘ ৯ বছর গণতন্ত্রের গান গেয়ে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার গ্রহণ করেছিলেন। এরপর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।’

তিনি বলেন, ‘আজীবন সংগ্রামী নেত্রী সকল অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে কাটিয়েছেন। ২০০৭ সালে ১/১১ এর চক্রান্তমূলক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার, গণতন্ত্রকে বন্দি এবং দেশকে বি-রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। আর সে কারণেই তাকে আর তার দলকে নির্মূল করার চক্রান্ত শুরু হয়।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। আজ প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি কারারুদ্ধ। যদিও সরকার সাময়িকভাবে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে, কিন্তু তিনি স্বাধীন জীবনে ফিরতে পারেন নি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে না যাওয়ার শর্ত থাকায় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারছেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, জহিরুদ্দিন আহমেদ স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান।

সারাবাংলা/এজেড/একেএম





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর