
কোনো ধরনের ‘পাতানো নির্বাচন’ এর আভাস পাওয়া গেলে রাজপথে নেমে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে এবং আমরা যদি দেখি আবারও একতরফা নির্বাচনের প্লট সাজানো হচ্ছে, তাহলে আমাদের রাজপথে নামতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি এনএসআই প্রধান একটি দলের প্রধানের সঙ্গে তাদের পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎ হতে পারে। কিন্তু পার্টি অফিসে গিয়ে তা করা আমাদের কাছে অশনিসংকেত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে- এমন আস্থা জনগণের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা ইসিকে কথার মাধ্যমে নয়, কার্যক্রম দিয়েই প্রমাণ করতে হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকাও দাবি করেছে দলটি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আমরা দেখছি না। পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা নিতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। একইসঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা ঘটনা দৃশ্যমান। তপশিল ঘোষণার পরদিনই একজন চিহ্নিত আসামির হাতে আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। অনেক এলাকায় এখনও সশস্ত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের জেলের বাইরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। চিহ্নিত আসামিদের প্রকাশ্যে চলাচলের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা আরও বেড়েছে।
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে চায় না এনসিপি- এ কথা জানিয়ে দলটির মুখপাত্র বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। আমরা চাই না- ফ্যাসিবাদের দোসররা কোনোভাবেই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। কমিশনকে পরিষ্কারভাবে সে কথা বলেছি। আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কোনো ধরনের পুনর্বাসন আমরা চাই না।’
এনসিপির এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী- এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন আমাদের কথা শুনেছে। তারা জানিয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে বিধিবদ্ধভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আসিফ বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে কিনা, এমন শঙ্কা আছে। বিগত তিন নির্বাচনে আমরা দেখেছি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, একতরফা আচরণ ও রাতের ভোট। এ ধরনের একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনটা হয়ে যাবে- এ ধরনের শঙ্কা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন কোনোভাবেই তা না হয়, সেজন্য আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে তা সম্ভব না হলে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হব।’
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই- আপিলে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা বড় দলের প্রতি দুর্বলতা দেখতে চাই না। এক্ষেত্রে প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে এমন কোনো প্রক্রিয়া দেখা গেলে আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বসে থাকব না। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধিকার ছিনিয়ে নেব।’
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্যের গরমিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাসে একজন প্রার্থীর আয়ের পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এর আগে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন যুগ্ম দলটির সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ এবং নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম।