শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

সোহেল চৌধুরী হত্যা : আজিজ মোহাম্মদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা – Corporate Sangbad

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২
  • ২০১ সময় দেখুন
সোহেল চৌধুরী হত্যা : আজিজ মোহাম্মদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা – Corporate Sangbad


নিজস্ব প্রতিবেদক : ৯০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন- ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম ও সেলিম খান।

রোববার (২০ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জাকির হোসেন এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

উল্লেখ্য, ৯০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী। মিষ্টি হাসি আর মায়াবী মুখচ্ছবির জন্য তাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্রের চির সবুজ নায়ক। কয়েকটি ছবিও তার সুপার-ডুপার হিট হয়। তখনকার বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল চিত্র নায়িকা ছিলেন দিতি। সোহেল চৌধুরী ও দিতি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করতে গিয়েই একে অন্যকে ভালবাসেন। একপর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সুখের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান। সংসারের প্রয়োজনে সোহেল চৌধুরী অভিনয় কমিয়ে দিলেও দিতি ছিলেন বিপরীত। চারিদিকে দিতির সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় তিনি সংসার থেকে অভিনয়কে বেশি প্রাধান্য দেন। মূলত এ কারণে সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিভিন্ন পরিচালক, প্রযোজক সোহেল চৌধুরীর শত্রুতে পরিণত হন। আর এ শত্রুতায় সোহেল চৌধুরীর জীবনের নির্মম পরিণতির কারণ ।

জানা যায়, স্ত্রী দিতির অবহেলা আর চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান নড়-বড়ে হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সোহেল চৌধুরী। তিনি জড়িয়ে পড়েন নেশার জগতে। একপর্যায়ে বিভিন্ন ক্লাবপাড়া তার ঠিকানায় পরিণত হয়। সেখানে নেশা ও জুয়ায় মজে থাকতেন তিনি। আর সেখানেই অপরাধ জগতের গড ফাদারদের সাথে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

দ্বন্দ্বের শেষটা তাকে জীবন দিয়েই মেটাতে হয়েছে। মৃত্যুর ২৪ বছর পরও স্বজনরা সোহেল চৌধুরী হত্যার বিচার পায়নি।

১৬ বছর অন্ধকারে সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলা

১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের আবেদীন টাওয়ারে ট্রাম্পস ক্লাবের নীচে নায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলিতে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর দুই বছর পর মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ওই বছরই আসামিদের মধ্যে একজন হাইকোর্টে আবেদন আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ ১৯ বছর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি স্থগিত ছিল। সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে ফের মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজ, আদনান সিদ্দিকী, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, তারেক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটন, ফারুক আব্বাসী, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী। এদের মধ্যে দুই আসামি সানজিদুল ইসলাম ইমন ও আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর