নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের এক মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ৪টি মামলার মধ্যে ৩টি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। তবে আরও একটি মামলা থাকায় এখনই তার মুক্তি মিলছে না।
সোমবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার রাজধানীর রমনা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শুনানি শেষে দশ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার (১০ এপ্রিল) তিনি ২০১৯ সালে রমনা থানায় দায়েরকৃত অর্থপাচার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পৃথক ২টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলাটি তদন্ত করে এক বছর পর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন ‘অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে’ অর্জিত অর্থে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন সম্রাট।
মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় তিনি ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, এর মধ্যে অনেক ক্লাবে ক্যাসিনোর কারবার চলত।
অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্রাট ঢাকার গুলশান, ধানমণ্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন এবং বাড়ি করেছেন; এছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে তার এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে জানায় দুদক।
অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোয় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সম্রাট এবং তার সহযোগী আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ওই দিন দুপুর ২টার দিকে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বাহিনীটির একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। কার্যালয়ে অবৈধভাবে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।