বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

কেরানীগঞ্জে ৪টি অবৈধ সিসা ভাট্টি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, জরিমানা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৫ সময় দেখুন


ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

পরিবেশ দূষণের অভিযোগে ঢাকার অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চারটি অবৈধ ব্যাটারি সিসা ভাট্টি (সীসা গলানোর চুল্লি) গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে এক্সাভেটর ব্যবহার করে ভাট্টিগুলো ধ্বংস করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই কারখানাগুলো পরিচালিত হচ্ছিল। 

তেঘরিয়া ইউনিয়নে আব্দুল্লাহপুরের করেরগাঁও এলাকায় অভিযান চলাকালে সব ভাট্টির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সিসা গলানোর কাজে ব্যবহৃত চুল্লিগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ভাট্টিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সিসা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ভাট্টি পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগে একজনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল অংশ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, এই ভাট্টিগুলো বহু বছর ধরে পরিবেশ দূষণ করে আসছিল। ব্যাটারি কারখানার সিসা গলানোর ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া এবং রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে মিশে গিয়ে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছিল। এর ফলে শিশু, গর্ভবতী নারী, গবাদিপশু এবং আশেপাশের উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

সিসাদূষণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সম্প্রতি দেশের সাড়ে ৩ কোটির বেশি শিশুর রক্তে বিপজ্জনক মাত্রার ক্ষতিকর সিসা উপস্থিত থাকার তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ।

পিউর আর্থ বাংলাদেশ, ইয়ুথনেট গ্লোবাল এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানের জন্য যৌথভাবে কাজ করে আসছে। এবার এই ক্ষেত্রে বড় এক অগ্রগতি দেখা গেছে।

গত এক মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সীসা-এসিড ব্যাটারি রিসাইকেলিং কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। এ সময় ১৮টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ১০ টি সীসা গলানোর চুল্লি (ভাট্টি) ধ্বংস করা হয়েছে।

এটি সীসা দূষণ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া বলেন, “পরিবেশ দূষণ করে এমন কোনো কারখানা কেরানীগঞ্জে চলতে দেওয়া হবে না। অবৈধ সীসা কারখানার বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। যারা আইনের তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় মুদি দোকানি বলেন, ‘এই সিসা কারখানাগুলোর পেছনে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের হাত রয়েছে। আগে আওয়ামী লীগ, এখন বিএনপির নেতারা জড়িত। সবাইকে টাকা দিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়।’

আরেক বাসিন্দা, এক যুবক, জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তারা ভাট্টির ধোঁয়া সহ্য করে আসছেন। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান এলেও কিছুদিন বন্ধ থাকার পর কারখানাগুলো আবার চালু হয়ে যায়। “আমাদের একটাই দাবি—এই কারখানাগুলো যেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়,” বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২২ মার্চ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল (দক্ষিণ)-এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এক কারখানা মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে এরপরও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে তরুণ পরিবেশ  কর্মী এবং ইয়ুথনেট গ্লোবাল’র  নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান  বলেন, “এই অবৈধ সিসা কারখানাগুলো শুধু স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্যও ভয়াবহ ক্ষতিকর। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত এসব কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্বাগত জানাই। তবে তা যেন সাময়িক না হয়।” তিনি আরো বলেন, ”এসব দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিককল্পনা। নইলে চোর পুলিশ খেলা চলতেই থাকবে। আমাদেরকে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে বেশিমানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে প্রাধান্য দিতে হবে।”



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর