গাজীপুর প্রতিনিধি : অনলাইন জুয়া খেলায় হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার জুয়া চক্রের সাথে জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছেন জিএমপি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে জিএমপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৭ ডিসেম্বর সদর থানা জিএমপি পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়ারী চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এদের সকলেরই বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানায়।
ডিজিটাল কয়েন লেনদেন মুলত সারা বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট, ফুটবললীগ, টেনিস এবং বর্তমানে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার মাধ্যমেও প্রধানত অনলাইনে জুয়া খেলা হয়। ব্যবহারকারী জয়ী হলে ডিজিটাল কয়েন ফেরত নিয়ে এর বিপরীতে আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে থাকে। হারলে তার পুরো ডিজিটাল কয়েনটাই পর্যায়ক্রমে জুয়া পরিচালনাকারীর কাছে জমা হয়ে যায়। উক্ত velki live এর সাইটে ০১ জন এ্যাডমিন, ১৪ জন সাইট সাব এ্যাডমিন, ২৪০ জন সুপার এজেন্ট, ১৫০০ এর অধিক মাষ্টার এজেন্ট এবং সারা দেশে প্রায় দুই লক্ষাধিক ইউজার রয়েছে বলে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃতদের জব্দকৃত মোবাইল, বিকাশ, রকেট ও ব্যাংক হিসাব এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বাংলাদেশে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম velki.live (সাবেক নাম 9Wickets) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে Google chorme ব্রাউজার ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের উঠতি বয়সের যুবকদের আসক্ত করে বিদেশে পাচার করে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
তারা মালোয়েশিয়া/দুবাই এর মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে WhatsApp Business Account খুলে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করে থাকে। এই সার্ভারটি প্রধানত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে velki live এর এ্যাডমিন আকাশ মালিক ও রনি (বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দুবাই প্রবাসী)। তিনি এটিকে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিদেশী নাম্বার ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশের ৫টি লেয়ারে তথা (১) এ্যাডমিন, (২) সাইট সাব এ্যাডমিন, (৩) সুপার এজেন্ট, (৪) মাষ্টার এজেন্ট ও (৫) ইউজার (রুট লেভেলের ব্যবহারকারী) লেয়ারে বিভক্ত করে। প্রতিটি লেয়ার তার উপরের লেয়ারের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। তার মধ্যে একজন রুট লেবেলের আগ্রহী অনলাইন জুয়ারী https://allagentlist.com/ad.php ব্যাবহার করে ক্লিক করলেই ১০০০ টাকার বিপরীতে ১০ টি ডিজিটাল কয়েন প্রদান করে অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জিএমপি সদর থানা কর্তৃক প্রথমে মাষ্টার এজেন্ট নাসির গ্রেফতার হলে তার দেওয়া তথ্য, ব্যবহৃত মোবাইলের মেসেঞ্জার, হোয়টাসএ্যাপ চ্যাটিং ও এমএফএস (বিকাশ/নগদ/রকেট) যাচাই করে দেখা যায় যে, তার নিকট রুট লেবেলের প্রায় ৭০ জন ব্যবহারকারীর নিকট থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করে তার উর্ধ্বর্তন সুপার এজেন্ট মারুফ এর নিকট প্রদান করে। মারুফকে গ্রেফতারের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলে সাথে অপর ৭ জনেরও জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, মেসেঞ্জার, হোয়টাসএ্যাপ চ্যাটিং ও এমএফএস (বিকাশ/নগদ /রকেট) যাচাই করে দেখা যায় যে, সে তার উধ্বর্তন সাইট সাব এ্যাডমিন হককে (ওয়েবসাইট নেম) একটি ডাচ বাংলা ব্যাংক এর এজেন্ট ব্যাংকের ১৪৮ টি একাউন্টে গত নভেম্বর মাসে ২ কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয়েছে। এ হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ১৫০০ টি মাস্টার এজেন্টের মাধ্যমে ১ মাসেই ৩ হাজার কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। যা বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। ফলে দেশ হতে পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এ সংক্রান্তে সদর থানা, জিএমপি কর্তৃক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এ মামলা রুজু এবং সিআইডি কর্তৃক মানি লন্ডারিং আইনে মামলা গ্রহণের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।