শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাম ও হামের উপসর্গে ৩০ দিনে ১৪৩ শিশুর মৃত্যু Youth-led Innovation Lab-এ ইপসার সাফল্য, জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছে TeaCycle ও Econova দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার রাকসু নির্বাচন: মেয়াদ শেষ, দ্রুত নির্বাচনের দাবি ছাত্রনেতাদের কালিয়াকৈরে ঢাকা টাংগাইল মহাসড়কের উপরে ময়লার ভাগার সাধারণ পথচারীর চরম জনদুর্ভোগ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে তেলবাহী ৪ জাহাজে আগুন Ankur Rathee Calls Indian Cinema’s Fair-Skin Bias ‘Dangerous’: ‘West Idolises Lupita Nyong’O’ | Exclusive | Bollywood News ‘I was very happy’: Smriti Mandhana reveals MS Dhoni’s special WhatsApp message after World Cup win | Cricket News পিরোজপুরে মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

চরাঞ্চলে এক জমিতে তিন ফসল চাষের সফল পরীক্ষা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫
  • ১২৯ সময় দেখুন


বাকৃবি (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ::

চরাঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখে যমুনার চরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি)  কৃষিতত্ত্ব বিভাগের একদল গবেষক। জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর গুজিমারী এলাকায় গবেষণার কাজ চলমান রয়েছে। গবেষণার অংশ হিসেবে তারা শস্যবিন্যাস পদ্ধতির মাধ্যমে যমুনার চরের একই জমিতে সারা বছরে তিন ধরনের ফসল চাষ করে প্রাথমিকভাবে সাফল্য পেয়েছেন। যা ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যমুনার চরের মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

‘ফসলের উৎপাদনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরীক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল ফসল ব্যবস্থার অভিযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চরাঞ্চলের ফসলের উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পটি বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও বাকৃবির পিএইচডি গবেষক পরেশ চন্দ্র দাস এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ইকরামুল হক।

এ গবেষণার মাধ্যমে চরাঞ্চলে বিদ্যমান ফসল ও চাষ পদ্ধতি বের করা, জলবায়ু সহনশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক শস্য ব্যবস্থার বিকাশ, খরার প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল উদ্ভাবন এবং জলবায়ু-স্মার্ট উৎপাদন পদ্ধতি বের করাই হলো গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

গবেষক পরেশ চন্দ্র দাস জানান, চরাঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত সুনির্দিষ্ট শস্যবিন্যাস অনুসরণ না করে বিচ্ছিন্নভাবে ভুট্টা, মরিচ, ধনিয়া, পাট, আলু, রসুন, ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করেন। ফলে ফসলের উৎপাদন কম হয় এবং আকস্মিক বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গবেষণার আওতায় তিন ধরনের লাভজনক শস্যবিন্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো ভুট্টা-পাট-রোপা আমন শস্যবিন্যাস পদ্ধতি। অন্যটি আলু-পাট-রোপা আমন শস্যবিন্যাস পদ্ধতি এবং আরেকটি মরিচ-চিনাবাদাম-রোপা আমন শস্যবিন্যাস পদ্ধতি। এ শস্যবিন্যাস পদ্ধতির অনুসরণ করে আধুনিক জাত, উন্নত প্রযুক্তি এবং কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতিটি চিহ্নিত করে চরাঞ্চলের চাষীদের জন্য সুপারিশ করা হবে।

ড. আহমেদ খায়রুল হাসান বলেন, ‘গত দুই বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় জলমগ্ন সহনশীল বিনাধান-১১ এবং কম বয়সী চারা ভালো ফলন দিয়েছে। ভুট্টা ও মরিচের সঙ্গে আন্তঃফসল (সাথী ফসল) হিসেবে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, কালোজিরা, মেথি, ধনিয়া ও মটরশুঁটি চাষ করার ফলে একক ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক হয়েছে।’

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মালচিং ও ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পাটের বীজ প্রাইমিং করে অঙ্কুরোদগমের হার বেড়েছে। আগাছা দমনে আগাছানাশক ও হ্যান্ড উইডিংয়ের সমন্বিত ব্যবহারে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এছাড়াও বারি সরিষা-১৪, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, গম, রসুন, কাউন ও সূর্যমুখীর ফলনও সন্তোষজনক ছিল।

গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর গুজিমারী এলাকার কৃষাণী নাছিমা খাতুন জানান, গবেষক ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৩৩ শতাংশ (১ বিঘা) জমিতে সূর্যমুখী, ভুট্টা ও রোপা আমন চাষ করেছি। এতে তিনি ভালো ফলন পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও অধিক জমিতে এ শস্যবিন্যাসে চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন।

গবেষণাটির তত্ত্বাবধানে যুক্ত  কৃষিতত্ত্ব বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম গবেষণার বিষয়ে বলেন, ‘নির্দিষ্ট শস্যবিন্যাস অনুসরণ করলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আগাছার প্রভাব কমে, মাটির পুষ্টি উপাদান সংরক্ষিত থাকে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে এ গবেষণার ক্ষেতে প্রতি আধা শতাংশ জমিতে ৭৬ কেজি পর্যন্ত আলু উৎপাদনের নজির পাওয়া গেছে, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর