শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

জবির স্টাফ বাসে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯২ সময় দেখুন
জবির স্টাফ বাসে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ


জবি: নিয়মিত শিক্ষার্থী পরিবহন ধরতে না পারায় স্টাফ বাসে ক্যাম্পাসে আসার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক কর্মকর্তা তিন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হেনস্তাকারী কর্মকর্তার নাম খন্দকার হাবিবুর রহমান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের উপ-পরিচালক।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জানান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত শিক্ষার্থী পরিবহন বাসটি ধরতে না পারায় তারা স্টাফ বাসে উঠেন। এ সময় বাসে থাকা এক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখতে চান এবং কার্ডের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লোকাল বাসে চলাচলের কথা বলেন এবং স্টাফ বাসে ওঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

ভুক্তোভুগী দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, ‘আমরা স্টুডেন্ট বাস মিস করায় স্টাফ বাসে উঠেছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কে, এরপর আইডি কার্ড দেখতে চান। কার্ড দেখে বলেন, এর তো কোনো মেয়াদ নেই, এই কার্ড নিয়ে আর কোনোদিন আমাদের বাসে উঠবেন না। আরেক আপুর আইডি কার্ড প্রায় পাঁচ মিনিট নিজের কাছে রেখে দেন।’

একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র বলেন, ‘‘বাসে উঠার পর উনি বলেন আমি নাকি প্রতিদিন এই বাসে আসি। ‘আমি বললাম, আজকেই প্রথম উঠেছি, কারণ স্টুডেন্ট বাস মিস হয়েছে’। তখন তিনি বলেন, ‘তুমি আর এই বাসে আসবা না, লোকাল বাসে ভাড়া দিয়ে আসবা। এই বাস তোমাদের জন্য না।’’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, ‘যেকোনো স্টুডেন্টের প্রয়োজন আগে, বিশেষ করে নারী স্টুডেন্টের সুবিধা আগে৷ আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভার্সিটির বাস মিস করলে কাজলা, শনিরআখরা থেকে আসাটা আরও বেশি কষ্টকর। আমাদের সকলের উচিত, শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। আর কোনো কর্মকর্তা-শিক্ষক যদি এমন বিষয়ে কোনো দূর্ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আমার মতে তার শাস্তি হওয়া উচিত, এটা আমার ক্ষেত্রে হয়ে থাকলে আমারও শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অর্থ ও হিসাব দফতরের উপ-পরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাইরের অনেকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বাসে ওঠায় অনেকদিন সিট সংকটের কারণে অনেককেই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। সেই অবস্থান থেকে আজকে আমি আমাদের বাসে যারা উঠতেছিলো তাদেরকে জিজ্ঞেস করি তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না এবং সেটা যাচাই করতে তাদের আইডি কার্ড দেখতে চাই। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলেছে তার পূর্বেও দুইজনকে বাসে বসার অনুমতি দেই। কিন্তু তার আইডি কার্ড দেখতে চাওয়ার বিষয়ে কার্ড নিয়ে নেওয়া, উচ্চ স্বরে কথা বলা বা হেনস্তার অভিযোগ তুলেছে সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। অভিযুক্ত যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তাই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার স্যারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom