রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

নজর কাড়ল গোলাপি মহিষ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ১৭০ সময় দেখুন
নজর কাড়ল গোলাপি মহিষ


এদিকে হাটগুলোতে  হাজারো পশুর মধ্যে ক্রেতাদের নজর কেড়েছে গোলাপি রঙের দুটি মহিষ। বিরল প্রজাতির এই দুইটি মহিষ দেখতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকায় ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্রেতা এসে মহিষ দুটির দামও করছেন। কিন্তু দরদামে না মেলায় মহিষ দুটি বিক্রি করতে পারেননি বিক্রেতা।

সাধারণত মহিষ কালো রঙেরই হয়ে থাকে। কালো ছাড়া অন্য রঙের মহিষের দেখা পাওয়া দুর্লভ। আর গোলাপি রঙের মহিষ জীবনে একবারও দেখেননি অনেকে। চট্টগ্রামের মইজ্জারটেকের হাটে গোলাপি রঙের দুইটি মহিষ এনেছে ফেমাস অ্যাগ্রো।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, সাত- আট মাস আগে সিলেট থেকে তারা এই দুইটি মহিষ কিনে এনেছেন। সিলেটে এসব মহিষ আনা হয়েছে ভারত থেকে।

জানা গেছে, মহিষের এমন রঙের পেছনের কারণ জিনগত বিশেষ বৈশিষ্ট্য অ্যালবিনো। এ কারণে এমন মহিষের দেখা পাওয়া ভার।

রোববার (৩ জুলাই) মইজ্জারটেক হাটে গিয়ে দেখা গেছে, গোলাপি রঙের একটি মহিষকে বাজারের প্রথমদিকে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর একটি মহিষকে কিছুটা দূরে রাখা হয়েছে। মহিষ দুইটির পরিচর্যা করছেন কয়েকজন মিলে।

dhakapost

গোলাপি রঙের মহিষের বিক্রেতা শাহা আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাত মাস আগে সিলেট থেকে গোলাপি রঙের দুইটি মহিষ এনেছি। সচরাচর এমন রঙের মহিষ পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, রাজাবাবু নামে গোলাপি রঙের বড় মহিষটির দাম চাচ্ছি সাড়ে চার লাখ টাকা। একটু ছোট যেটি সেটির দাম চাচ্ছি ৪ লাখ টাকা। এখনও কোনো ক্রেতা কাঙ্ক্ষিত দাম বলেননি। বললে বিক্রি করে দেব।

ফেমাস অ্যাগ্রোর মালিক মীর সাইফু বলেন, অনেকেই মহিষগুলোকে দেখতে আসছেন। আবার অনেকে কেনার জন্য দরদাম করছেন। এখনও কেউ কাঙ্ক্ষিত দাম বলেননি।

মহিষ দুইটির পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সচরাচর আমরা কালো রঙের মহিষ দেখি। গোলাপি রঙের মহিষ লাখে একটিও মিলে না। অনেক মানুষ আসছে দেখার জন্য। প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার মানুষ আসছে দেখার জন্য।

শিকলবাহা এলাকা তেকে গোলাপি রঙের মহিষ দেখতে এসেছেন মারুফ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, মহিষ সবসময় কালো রঙের দেখেছি। কিন্তু এই মহিষটার রঙ ইউনিক। এখানে গোলাপি রঙের মহিষ আছে শুনে দেখতে এসেছি। জীবনে প্রথমবারের মতো এই রকম রঙের মহিষ দেখলাম৷

বাবার সঙ্গে মইজ্জারটেক  বাজারে এসেছিলেন নাহিয়ান নামে ১০ বছরের এক শিশু। নাহিয়ান বলে, মোবাইলের ভিডিওতে গোলাপি রঙের মহিষ দেখেছিলাম। তাই সরাসরি দেখতে এখানে চলে এসেছি।

dhakapost

মইজ্জারটেক বাজারে কোরবানির পশু কিনতে আসা কর্ণফুলী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম বলেন, এই রকম গোলাপি রঙের মহিষ কখনো দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম। ছেলেকে নিয়ে দেখছি। ছেলে পছন্দ করলে নিয়ে নেব।

এখনও জমেনি পশুর হাট

চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো এখনও জমে ওঠেনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরীর স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ৬টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হবে। হাটগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পশু থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবার থেকে হাটগুলো জমে উঠবে। তবে বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বেপারিরা পশুর দাম বেশি চাচ্ছেন।

রোববার ( ৩ জুলাই) চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক বাজারের গরু বেপারি মো. ইসমাইল বলেন, এখনও  বেচা বিক্রি শুরু হয়নি। আশা করছি, মঙ্গল ও বুধবার থেকে পুরো দমে বিক্রি শুরু হবে। সেই আশায় একশর বেশি গরু নিয়ে বসে আছি। ১৪টি মহিষ আছে। ৯ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার গরু আছে।

dhakapost

গরুর দাম বেশি চাওয়ার বিষয়ে বলেন, আমরা গরু বিক্রি করে বেশি লাভ করছি না। অল্প লাভেই বিক্রি করে দিই।  গরুর কেনার সময় বেশি দামে কিনতে হয়েছে। কারণ পশুর খাদ্যের দাম বেড়েছে। কৃষকের থেকে বেশি দামে গরু ক্রয় করতে হয়েছে।

নোয়াখালী থেকে মইজ্জারটেক বাজারে গরু বিক্রি করতে এসেছেন মোহাম্মদ মনির। তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা একবারে কম। যারা হাটে আসছেন তারা গরু দেখে চলে যাচ্ছেন। চার লাখ টাকার গরুর দাম বলছেন দুই তিন লাখ টাকা। এই দামে কি গরু বিক্রি করতে পারব? মঙ্গল ও বুধবার থেকে বাজার জমে উঠবে বলে আশা করছি।

মইজ্জারটেক হাটে গরু কিনতে যাওয়া নগরীর এনায়েত বাজারের মোহাম্মদ সালাম বলেন, পরে ঝামেলা হবে ভেবে আগেই গরু কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু বাজারের ব্যবসায়ীরা বেশি দাম চাচ্ছে। এখনও গরু কিনতে পারিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের নগরীর বাজারগুলোতে দুই শিফটে ভেটেরিনারি চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। আর উপজেলাগুলোতে এক শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৭১টি মেডিক্যাল ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা আছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ২১ হাজার। আর চট্টগ্রাম কোরবানিযোগ্য পশু আছে ৭ লাখ ৯১ হাজার। প্রায় ৩০ হাজারের মতো কম আছে। এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে এসে পূরণ হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম পশুর হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে পশু থাকবে।

গোলাপি রঙের মহিষ সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণত মহিষ কালো রঙের হয়। এগুলো গোলাপি বলে মানুষের আগ্রহ বেশি। সাদা রঙের মহিষও দেখেছিলাম। বিভিন্ন ব্রিডের সঙ্গে ক্রস হয়ে এমন রঙের হয়েছে বলে ধারণা করছি।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর