রিয়াদ আহাম্মেদ, শেরপুর:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জড়াকুড়া গ্রামে ক্রয়কৃত জমি বেদখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জড়াকুড়া এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৫৫) ২৬৯ বিআরএস খতিয়ানের ৯৫২ দাগে ৭ শতাংশ জমি তেইশ বছর পূর্বে ক্রয় করে ভোগদখলও করতেছিলেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই প্রতিবেশী সুরুজ আলীর পরিবারের সাথে তাদের বিরোধ চলছিল। প্রতিবেশী সুরুজ আলীর বড় ছেলে উকিল মিয়া (৪০) ওই ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন বলে মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। সেইসাথে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার জন্য নোটিশও প্রদান করেন। তারপর জমির মালিকানা দাবি করা উকিল মিয়াও আদালতে মামলা করেন।
কিন্তু আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে উকিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা নজরুল ইসলামের ভোগদখল করা জমিতে জোরপূর্বক একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং তাদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে দেন। এতে নজরুল ইসলামের পরিবার তিনদিন থেকে বাড়িতে যেতে পারছেন না।
এদিকে সেই ঘরে রেখেছেন উকিল মিয়ার শয্যাশায়ী বৃদ্ধা মাকে। যিনি একজন ব্রেইন স্ট্রোকের রোগী এবং রয়েছেন মৃত্যুশয্যায়। তার অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয় এবং মুখে খাবারও গ্রহণ করতে পারেননা। এমতাবস্থায় নজরুল ইসলামের পরিবারের লোকজন ভয়ে নিজের জমিতে যেতে পারছেননা। এদিকে প্রতিপক্ষরা সেই শয্যাশায়ী রোগীকে নিজেরাই মেরে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের কথাও বলেন তারা। তাই ন্যায় বিচারের আশায় ও নিজের ভিটে-মাটি ফিরে পেতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উকিল মিয়া বলেন, আমি এই ৭ শতাংশ জমি পাঙ্খাবিবির সন্তানদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। অন্য কারো জমিতে না, আমার কেনা জমিতেই আমি ঘর উঠিয়েছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।