নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কানাডায় পলাতক রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরায়ানা জারি করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ মার্চ) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। আজ আদালত ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে ১০ আসামি পলাতক থাকায় বিচারক এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামিরা হলেন- পিকে হালদারের মা লিলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
মামলার অপর চার আসামি কারাগারে আছেন। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরা হলেন- অবন্তিকা বড়াল, শঙ্খ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধা।
দুদকের আদালত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পিকে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। যা দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, উৎস গোপন বা আড়াল করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন।
পরে দুদক তদন্ত শেষে চলতি বছরে ১৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। এছাড়া ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে। চলতি বছরের শুরুতে পি কে হালদারের কানাডা পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর তার পাসপোর্ট, সম্পত্তি জব্দ করা হয়। আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে অপসারণও করা হয়।