আন্তর্জাতিক ডেস্ক
করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবে আমেরিকায় ফের দৈনিক করোনা সংক্রমণ লাখের ঘর স্পর্শ করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার (৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। গত সাত দিন ধরে দৈনিক গড়ে ৯৪ হাজার ৮১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। ৮০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের জন্য দায়ী করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নামে পরিচিত এ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্তোনি ফাউচি বুধবার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, সামনের কয়েক সপ্তার মধ্যে দৈনিক ২ লাখের বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হতে পারে আমেরিকায়।
ফাউচি এক সাক্ষাৎকারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না, তারা ভুল করে ভাবছেন ব্যাপারটি হয়ত তাদের একান্তই নিজস্ব। কিন্তু আসলে এটি তাদের ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার নয়। ভ্যাকসিন নেওয়া সবার জন্য জরুরি। ডেল্টার পাশাপাশি যদি অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হয়, আর সেটি যদি একইরকম উচ্চ সংক্রামক ও মারাত্মক ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হয়ে উঠে, তাহলে আমরা সত্যিকার অর্থে বিপদে পড়ে যাব’।
উল্লেখ্য যে, ভ্যাকসিনেশনে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র উপরের দিকে অবস্থান করছে। তবে দেশটিতে বিশাল সংখ্যক জনসাধারণ ভ্যাকসিন গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে গোটা দেশকে পুরোপুরি ভ্যাকসিনের আওতায় আনা এখনও সম্ভব হয়নি। ভারমন্ট, মিসিসিপির মতো অঙ্গরাজ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগের হার কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিন না নেওয়া ব্যক্তিরা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে হাসপাতালে চাপ বাড়ে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৩ শতাংশ করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য দায়ী এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।
উল্লেখ্য, করোনার আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বে একক কোনো দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন
সারাবাংলা/আইই