আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৫ দিনে আফগানিস্তানের অন্তত ৮টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নিয়েছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবান। বুধবার (১১ আগস্ট) উত্তর আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের রাজধানী ফইজাবাদ দখল করে নিয়েছে তারা।
বাদাখশান প্রাদেশিক কাউন্সিলের এক সদস্য রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফইজাবাদ শহরে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক সংঘর্ষের পর পিছু হটেছে সরকারি বাহিনী। বুধবার ওই শহর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জেলা জাওয়াদ মুজাদিদিতে অবস্থান নিয়েছে সৈন্যরা।
উত্তরপূর্ব আফগানিস্তানের প্রদেশ বাদখশানের সঙ্গে তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত রয়েছে। ফলে কৌশলগত দিক থেকে এ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ দুই পক্ষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বুধবার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বালখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই শরিফে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। ওই শহরে সমাবেশের মাধ্যমে তালেবান বিরোধী শক্তিকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস চালাবেন তিনি। এছাড়া সরকারি বাহিনীর কৌশলগত জোট সঙ্গীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। উল্লেখ্য, মাজার-ই-শরিফ আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর। শহরটি সংক্ষেপে মাজার হিসেবে পরিচিত।
সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে টলো নিউজের খবরে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মাজার-ই-শরিফে মার্শাল আবদুল রশিদ দস্তুম, বলখ প্রদেশের সাবেক গভর্নর আত্তা মুহাম্মদ নূর এবং প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তালেবানের দ্রুত উত্থান ঠেকাতে মার্শাল আবদুল রশিদ দস্তুমের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল ন্যাটো ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে— গত বছর এমন ঘোষণা আসার পর থেকেই আফগানিস্তান দখলের জন্য লড়াই জোরদার করে উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবান। এর পর থেকে দেশের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয় তারা। তবে সরকার দাবি করছে, বহু জেলা পুনরুদ্ধার করে নিচ্ছে সেনাবাহিনী। গত শুক্রবার থেকে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক শহরগুলোর পতন হওয়া শুরু হয়। মাত্র ৫ দিনে ৮টি প্রাদেশিক শহরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।
আরও পড়ুন
সারাবাংলা/আইই