রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

সিপাহি বিদ্রোহের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও উজ্জ্বল বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ারBaharampur Barrack Square is still bright with the memory of Sepoy Mutiny

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৩১ সময় দেখুন


Last Updated:

Republic Day 2025:জানেন কি এই ময়দান থেকেই একটা সময়ে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের শুরু হয়েছিল? শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহ।

X

বহরমপুর

বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান 

কৌশিক অধিকারী, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরের ফুসফুস বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান। আর এই ময়দান আজও উজ্জ্বল প্রজাতন্ত্র দিবসের জন্য। ১৭৫৭-র পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পরাজয়ের পরবর্তী দু’শো বছরের জন্য নিকষ অন্ধকার নেমে এসেছিল ভারতের ভাগ্যাকাশে। কীভাবে বণিকের মানদণ্ড দেখা দিয়েছিল রাজদণ্ড রূপে, একটা আস্ত উপমহাদেশ পর্যবসিত হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশে, সে ইতিহাস তো সকলেই জানেন কিন্তু জানেন কি এই ময়দান থেকেই একটা সময়ে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের শুরু হয়েছিল? শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহ। রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবস। কিন্তু আজও স্মৃতি উজ্জ্বল ব্যারাক স্কোয়ারের।

স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এই ময়দান ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। একদা বাংলা বিহার ওড়িশার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্পদশালী রাজধানী মুর্শিদাবাদকে তাদের রাজত্বের কেন্দ্রবিন্দু করতে ভয় পেয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। রাজধানী সরে গিয়েছিল কলকাতায়। পলাশীর যুদ্ধের কয়েক দশক পরে অর্থাৎ ১৭৮৬ সালের ২৫ এপ্রিল স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল মুর্শিদাবাদ। ঐতিহাসিকরা জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের সুচনা হয়েছিল। ১৮৫৭ সালে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে যে সিপাহি বিদ্রোহ হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ব্যারাক স্কোয়ার ছিল সেই মহাবিদ্রোহের সূতিকাগার।

আরও পড়ুন : পদ্মশ্রী পাচ্ছেন হিমাচলের আপেলচাষি হরিমন শর্মা! চমকে যাবেন আপেলবাগানে তাঁর আজব আবিষ্কার জানলে

১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার থেকেই বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ। প্রথমে ব্যারাকপুর, তারপর ধীরে ধীরে গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। এনফিল্ড রাইফেলের টোটা সহ ইংরেজদের অন্যায় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বহরমপুর সেনা ছাউনির কিছু সেনার বিদ্রোহে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যারাকপুর সেনা ছাউনির সিপাহী মঙ্গল পান্ডে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন। লড়াইয়ের মাঠে কয়েকজন ইংরেজ সৈন্যকে হত্যা করে শেষে নিজের রিভলভার থেকে নিজের বুকে গুলি করেন তিনি। লুটিয়ে পড়েছিল তাঁর দেহ।

সেনা বাহিনীর বিদ্রোহে ভীত ইংরেজরা ভারতীয়দের ‘সমুচিত শিক্ষা’ দিতে মঙ্গল পাণ্ডের আহত শরীরকে তুলে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ারে আজও আছে মঙ্গল পান্ডের মূর্তি। পলাশির যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার সংলগ্ন চারশো বিঘা জমি লিজ নেয় ইংরেজরা। সিরাজ পরবর্তী সময়ে ইংরেজদের তৈরি ক্রীড়নক নবাবদের ওপর লক্ষ রাখতে ব্যারাক স্কোয়ার মাঠের ১২০ বিঘা জমির ওপর তৈরি করা হয় ক্যান্টনমেন্ট। যার নিদর্শন চারিদিকে আজও আছে। বর্গাকার এই ময়দানের চারদিকে রয়েছে চারটি কামান। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান।

Next Article

বসিরহাট সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় চালু বিএসএফ এর ‘অপস’



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর