বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে — পানিসম্পদ মন্ত্রী কর্ণফুলীতে দেয়াল ধসে নিহত ১, আহত ৩ দৌলতপুরে সন্ত্রাসী হামলায় গ্রাম ডাক্তার জাহাঙ্গীর আহত Another day, another record! Vaibhav Sooryavanshi scripts IPL history, becomes fastest to … | Cricket News কর্ণফুলীতে ভুয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অপপ্রচারের শিকার শেখ মুহাম্মদ ভূঞাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে ধর্ষণ করে হাত পা বেধে ফেলে যায় ধান ক্ষেতে Farhan Akhtar Reacts To Don 3 Controversy; Deepika Padukone Makes First Appearance After Pregnancy Announcement | Bollywood News কালিয়াকৈরে ট্রাক উদ্ধার, ৫৯০ বস্তা চাউল সহ আটক -২ কালিয়াকৈরে স্ত্রীর করা নির্যাতন মামলায় আবু তালহা আটক ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড দিবস পালিত

স্বীকৃতি ছাড়াই চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহমদ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ২৬৪ সময় দেখুন
স্বীকৃতি ছাড়াই চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহমদ


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ‘পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যোদ্ধা’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া জামাল আহমদ মারা গেছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম শহরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েও তার ছিল না কোনো সরকারি স্বীকৃতি। বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি, পাননি সনদও। মৃত্যুর পর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন তার সতীর্থ বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

রোববার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় জামাল আহমদের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বিএলএফ বাহিনী হয়েছিল, চট্টগ্রাম শহরে তার গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে ছিলেন জামাল আহমদ। তার নেতৃত্বে অনেকগুলো অপারেশন হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে উনার কোনো সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও উনার নাম ছিল না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

স্বীকৃতি না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম ওঠাতে হয় সেটা খুবই অসম্মানজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধা কেন নিজ থেকে আবেদন করবেন? একজন গ্রুপ কমান্ডার, তাকে যদি নিজ থেকে আবেদন করে নাম তালিকায় তুলতে হয় এবং সনদ পেতে হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু নেই। এজন্য চট্টগ্রাম শহরের অনেক গ্রুপ কমান্ডারের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। এমনকি জামালও কখনও আবেদন করেননি। ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির নামও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আছে, আর গ্রুপ কমান্ডার জামালের নাম নেই, এটা লজ্জাজনক। লাখ দশেক টাকা খরচ করলে এখন যে কেউ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম তুলতে পারেন।’

স্বীকৃতি ছাড়াই চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহমদ

জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগরের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএলএফ’র মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় জামাল আহমদের নাম আছে। তবে তিনি সনদ পাননি, এটা সত্য। তিনি কখনও আবেদনও করেননি। তিনি এখন মারা গেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আর বলতে চাই না।’

নগর আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জামাল আহমদ প্রতিবাদ-প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন। এজন্য তিনি পঁচাত্তরের অন্যতম ‘প্রতিরোধ যোদ্ধা’ হিসেবে খ্যাতি পান। তার মৃত্যুতে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানানো হয়েছে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এক শোকবার্তায় নওফেল বলেন, ‘জামাল আহমদ একাত্তরের রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি বহু আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত কর্মীকে হারালাম।’

যুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ, শহিদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, সাধন চন্দ্র বিশ্বাস এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, নগর কমিটির আহবায়ক সাহেদ মুরাদ সাকু ও সদস্য সচিব কাজী মুহাম্মদ রাজীশ ইমরান।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না থাকলেও জামাল আহমদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সকাল ১১টায় নগরীর লালদিঘী মাঠে প্রথম জানাজা ও বাকলিয়ায় দ্বিতীয় জানাজা থেকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, চসিকের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোামান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য বখতিয়ার উদ্দিন খান, বেলাল আহমদ, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom