রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ: আসছে ‘ইউজারনেম’ সুবিধা চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড শিক্ষার্থীদের, দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অপুষ্টির কারণে হামে বাড়ছে জটিলতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Avengers: Endgame Returns With A Bang! Encore Release Opens At Rs 7 Crore | Hollywood News Ex-India captain Asunta Lakra leads protest against Hockey India officials | Hockey News শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: রিজভী কালিয়াকৈরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিরতা করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে অপরিহার্য: ড. খলিলুর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম জাতিসংঘের প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

প্লাস্টিকের বস্তা তৈরীর কারখানায় সফল!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩৬৭ সময় দেখুন
প্লাস্টিকের বস্তা তৈরীর কারখানায় সফল!


প্লাস্টিকের বস্তা তৈরীর কারখানায় সফল!

প্লাস্টিকের বস্তা তৈরীর কারখানা করে সফল হয়েছেন জয়পুরহাটের উদ্যোক্তা মাহমুদুল হক। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তার কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে অসহায় বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বেকার যুবকসহ প্রায় দেড়শ শ্রমিক-কর্মচারীর। আর এখানকার উৎপাদিত হরেক রকমের প্লাস্টিকের বস্তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জানা গেছে, চীনে নারী শ্রমিকদের নিয়ে এমন একটি কারখানা দেখে উদ্বুদ্ধ হন মাহমুদুল হক। এরপর অসহায় বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে তিনি ২০১৩ সালে জয়পুরহাটের পুরানাপৈল ইউনিয়নের গতনশহর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন প্লাস্টিকের বস্তা উৎপাদনের কারখানা ‘হক বাংলা টেক’।

প্রথমে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন নিয়ে শুরু করেন এ কারখানার উৎপাদন কাজ। এরপর পর্যায়ক্রমে এতে কর্মসংস্থান হয়েছে দেড়শ অসহায় গরীব মানুষের। ছোট একটি জেলায় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বেকার যুবকদের। বর্তমানে এ কারখানায় বেশিরভাগ কাজ করছে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় নারীরা। অভাবের সংসারে একটি চাকরি যেন বদলে দিয়েছে তাদের জীবন-জীবিকা।

নিরাপত্তা বিভাগের কর্মচারী জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার স্বামী নাই, দুই সন্তান আছে। খুব কষ্টে সংসার চলতো। এ কারখানার কথা শুনে আমি এখানে চাকরির জন্য আসছিলাম। এখন আমি এখানে চাকরি করে খুব ভালভাবে চলছি। শ্রমিক আফরোজা বেগম বলেন, ৪ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। এর ৬ মাস পর্যন্ত আমি মানবেতর জীবনযাপন করছিলাম। এখানে চাকরি হওয়ার পর থেকে আমার কষ্ট দুর হয়েছে। আমার মেয়ে এবারে এইচএসসি পাশ করেছি। তাদের নিয়ে সুখেই আছি।

আরেক শ্রমিক রাবেয়া সুলতানা জানান, তার স্বামী ১২ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। অভাবের সংসারে ৫টি কন্যা থাকলেও নেই কোন পুরুষ। এমন অবস্থায় এখানে চাকরি পেয়ে পরিবারে এখন অনেকটা স্বচ্ছলতা এসেছে। সাজ্জাদ হোসেন জানান, ডিগ্রী শেষ করার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোন চাকরি পাচ্ছিলাম না। খুব হতাশ হয়েছিলাম, এমন সময় এই কারখানাতে চাকুরি পেয়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি।

এদিক সফল এই উদ্যোক্তা বলেন, বেকারদের একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো বলে চাকরি করিনি। বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কিছু করতে না পারায় হতাশ হয়নি। এরপর চীনে এমন একটি কারখানা দেখি। সেখানে প্রায় ৯৯% নারীরা কাজ করতো। সেই থেকেই আমি বস্তার কারখানা তৈরীর সিদ্ধান্ত নেই। প্রথমে মাত্র ৩০ জন নিয়ে আমি এটি শুরু করি। এখন আমার এই কারখানায় প্রায় দেড়শ শ্রমিক কাজ করে।

শ্রমিকদের মধ্যে নারী বেশি কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীরা সমাজে অনেকটা বঞ্চিত ও অবহেলিত। সেই কথা চিন্তা করেই তাদের চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত। এছাড়াও নারীরা কাজে ফাঁকি দেয় না। তিনি বলেন, এখান থেকে প্রতিমাসে উৎপাদন হয় প্রায় ৬০ টন প্লাস্টিকের বস্তা। কেমিক্যাল দিয়ে সুতা তৈরী থেকে শুরু করে বস্তা তৈরী পর্যন্ত সব কিছুই এখানে হয়।

তবে কারখানাটি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় বড় বড় বায়াররা এখানে আসতে চাননা। তাই আরও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানী করতে সরকার পদক্ষেপ চাই। ২০২৪ সালের মধ্যে এখানে আরও ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আর এ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা ও বেকার যুবকরা বলেও জানান তিনি। তথ্যসূত্র: অভিযাত্রা।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর