শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

UI-UX ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে তরুণদের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে চান স্বপ্নবাজ সাব্বির

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ৪৩২ সময় দেখুন


গ্রাফিক্স ডিজাইনিং প্রায়ই সবার কাছে পরিচিত এবং আমাদের নানাবিধ দরকারে বহুল ব্যবহৃত একটি ফাংশন। তবে UI-UX ইন্ডাস্ট্রি কি এবং এর কার্যপ্রণালি – ব্যবহার এর ব্যাপারে আমাদের অধিকাংশেরই কোনরকম ধারণা নেই। এর চাইতেও বড় প্রশ্ন হলো, এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংযুক্ত হলে নিজের ক্যারিয়ার – ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে? এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল গ্রাফিক্স ডিজাইনিং ও ইউআই- ইউএক্স (UI-UX) ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ক্রমাগত লড়াই করে যাওয়া চট্টগ্রামের তরুণ  মোহাম্মদ সাব্বির হোসাইন (রবিন) এর সঙ্গে।

 

সাব্বির বলেন, “ইউআই(UI) এর পূর্ণরূপ হলো User Interface এবং ইউএক্স(UX) এর পূর্ণরূপ হলো User Experience. একজন ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে “প্রোডাক্ট ডিজাইন” করাই হলো ইউএক্স ডিজাইনারের কাজ। ইউএক্স ডিজাইনার বেশ কিছু বিশেষ ধাপ অতিক্রম করে সমস্যার সমাধান বের করেন যাতে একজন ব্যবহারকারী পূর্বের তুলনায় আরও সহজে একটি “প্রোডাক্ট” ব্যবহার করতে পারেন। মনে করুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর ক্ষেত্রে ইউএক্স ডিজাইনার নির্ধারণ করেন ঐ অ্যাপ্সের কোথায় কি বসালে ব্যবহারকারীর সুবিধা হবে, কোন ধাপের পর কোন ধাপটি রাখলে একজন ব্যবহারকারী অ্যাপ্লিকেশনটি দিয়ে খুব সহজে কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে সহজ কথায় Interface হলো যা একজন ইউজার প্রত্যক্ষ করে। কিভাবে ইউএক্স এর ডাটার উপর ভিত্তি করে আকর্ষণীয় ইন্টারফেস ডিজাইন করা যায় সেটা নিয়েই কাজ করেন একজন ইউআই ডিজাইনার। 

 

কখনো কথনো একজন ব্যক্তিই একইসাথে ইউএক্স এবং ইউআই ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন আবার কখনো কখনো একজন ব্যক্তি “স্পেশালিস্ট” হিসেবে আলাদাভাবে ইউএক্স কিংবা ইউআই ডিজাইনার হিসেবে কাজ করে থাকেন। 

 

ইউআই – ইউএক্স হলো একটি সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি কিছুটা নতুন। তবে এর পরিচিতি ও চাহিদা খুব দ্রুত বেড়েই চলছে। বিশ্বব্যাপী নিত্যনতুন “ডিজিটাল প্রোডাক্ট” তৈরি হচ্ছে এবং সেসকল “ডিজিটাল প্রোডাক্ট” তৈরিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের পাশাপাশি দক্ষ ইউ এক্স – ইউ আই ডিজাইনারের চাহিদাও ব্যাপক। আগামী ৫/১০ বছরে এটি একটি বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে  পরিণত হতে যাচ্ছে দেশে এবং দেশের বাইরে। তাই আমি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর পাশাপাশি নিজেকে এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।”

 

সাব্বির বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বি. এস. এস. – সম্মান ৩য় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তিনি ছোটবেলা থেকে চট্টগ্রাম শহরেই বেড়ে উঠেছেন।

 

এই জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় কিভাবে? কেমন চলছে এখন সবকিছু? এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার শুরুটা হয়েছিলো ২০১৭ তে। আমার এক ভাই থেকে আমি প্রথম গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে জানতে পারি। আমার বিষয়টা প্রথমেই খুব ভাল লাগল। তার দেখাদেখি আমিও টুকটাক ফটোশপে কাজ শিখতে লাগলাম ইউটিউব দেখে এবং মোটামুটি সেই থেকেই এই সেক্টরে হাতেখড়ি। কিন্ত মাঝে দীর্ঘ ৩ বছর কাজ করা হয় নি পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে। 

 

তারপর ২০২০ সালে লকডাউনের শুরুতে ভাবতে লাগলাম কিভাবে অবসর সময়কে কাজে লাগানো যায়। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম যে গ্রাফিক ডিজাইনকে ভালোভাবে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করবো। লকডাউন এর সময়টিতে পড়ার চাপ তেমন ছিল না, তাই খুব সহজেই কাজে মনোযোগ দিতে পারতাম। এখন যদিও পড়ার চাপ আবারও আস্তে আস্তে বাড়ছে। কিন্তু এতে আমার খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। বরং আমি চাপকে উপভোগ করে সবকিছুর সমন্বয় করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

 

বর্তমানে কাজের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভাল। এখন অবধি প্রায় ১৫০ এরও বেশি প্রজেক্ট এর কাজ শেষ করেছি এবং বেশ কিছু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে যাচ্ছি।”

 

কাজের ক্ষেত্রে কি কি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বা হচ্ছেন? কোথা থেকে কাজের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান? এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতিটি কাজেই বাধা আছে, থাকবেই। আমি ও অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। যেমন শুরুর দিকে আমি যে ল্যাপটপ দিয়ে কাজ করতাম সেটির ভার্সন ছিল তুলনামূলক পুরোনো। তখন কাজ করতে অনেক সমস্যা হত। প্রচুর সময় এবং শ্রম দিতে হত, মনোবল ধরে রাখতে অনেক কষ্ট হত। নতুন কাজ এর অর্ডার না পেলে হতাশা কাজ করতো।

 

তবে কখনো থেমে যাওয়ার কথা ভাবিনি। নিজেকে নিজেই অনুপ্রাণিত করে যেতাম। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও আমার বন্ধুরা সবসময় আমাকে উৎসাহিত করে যেত। সবসময় নিজেকে আরও বেশি করে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ভাবতাম। উপরওয়ালাও আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। সবকিছুর বিনিময়ে আমি আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।”

 

তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি মূলত একজন ইউআই – ইউএক্স ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই সামনের দিনগুলোতে। 

পাশাপাশি গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে যে দক্ষতা আমার আছে, তাকে আরও বাড়িয়ে ফ্রিল্যান্সিং চালিয়ে যেতে চাই।

এবং পাশাপাশি একটি আইটি এজেন্সী(স্টার্টআপ) নিয়ে ভাবছি। সবাই দোয়া করবেন যাতে আমি আমার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।”

 

তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “

আমি নিজেকে সফল এখনও বলব না। কারণ এই সেক্টরে উন্নতির কোনো শেষ নেই। তাই কাউকে নীতিকথা বলার মত যোগ্যতা আমার এখনো হয় নি। তবে এটাই বলতে চাই – কোনকিছু শুরু করার কথা ভাবলে সেটি দেরি না করে শুরু করে দিন এবং লেগে থাকুন। সাফল্য আসবেই ইনশাআল্লাহ।”

 

◑ সাব্বির হোসাইন এর কাজের স্যাম্পল বা পোর্টফলিও দেখতে ঘুরে আসতে পারেনঃ 

 

Behance:  www.behance.net/sabbirrobin18401152

Dribbble:  www.dribbble.com/sabbir_loux.com

Facebook: www.facebook.com/hossain1111.robin

LinkedIn: https://www.linkedin.com/in/sabbir-robin-5b02991b0

Instagram: www.instagram.com/logo_bysabbir





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর