ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের (আইইআর) তৃতীয় বর্ষের ভাইভা বোর্ডে নিকাব ও হিজাব পরিহিতাদের হেনস্তার অভিযোগকে ‘মিথ্যা রটনা’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন অনুষদটির ২৭ জন শিক্ষক। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি অনুষদটির শিক্ষকরা ঘটনাটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এমন দাবি করেছেন। বিবৃতিতে সই করা ২৭ জন দাবি করেন, ভাইভা বোর্ডে পোশাক ও পর্দা নিয়ে কোনো ধরনের কথা হয়নি।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইআর) মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের সামনে নিকাব না খোলায় ভাইভা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থী। সেসময় অন্য আরেক শিক্ষার্থীকে জোর করে নিকাব খুলে ভাইভা নেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার অভিযোগে অনুষদটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামানকে শিক্ষার্থীদের নিকট ক্ষমা চাইতে হবে—এমন দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনুষদটির ২৭ জন শিক্ষকের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইনস্টিটিউটের ৩য় বর্ষের (২৬ তম ব্যাচের) মৌখিক পরীক্ষা ৩১ জুলাই ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়। ওই তারিখে একটি বোর্ডে আমরা তিনজন সহকর্মী ১৫জন শিক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করি। আইইআর-এর ২৬তম ব্যাচ থেকে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর দেওয়া হয় (দুই ক্রডিট)। ২৫তম ব্যাচ পর্যন্ত সন্তোষজনক বা সন্তোষজনক নয় হিসেবে ফলাফল দেওয়া হতো।’
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইইআরের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষায় যে কোনো শিক্ষার্থীকে শনাক্তকরণ শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিক্ষার্থীদের ৩য় বর্ষের মাইক্রোটিচিং সিমুলেশন কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীরা এ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পাঠদান (প্র্যাকটিস টিচিং / ইন্টার্নশিপ) করবে। সে কারণে তাদের পাঠদানের যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতা পর্যবেক্ষণ জরুরি। ফলে তাদের মুখমণ্ডল অনাবৃত করতে বলা হয়। সুতরাং বিষয়টি সম্পূর্ণ একাডেমিক ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকে নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে।’
সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে চারটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে যে, (১) পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার একমাস পর বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; (২) সকলের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর ওই দিন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রীর ভাইভা নেওয়া হয়নি বলে যা প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার; (৩) কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়নি। ওই ছাত্রী সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত থাকায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষাটি নেওয়ার জন্য মুখের কাপড়টি সরাতে বলা হয়েছিল। বুঝিয়ে বলার পরে তিনি সেটি করেছিলেন; (৪) ভাইভা বোর্ডে পোশাক পরিচ্ছেদ ও পর্দা নিয়ে কোনো ধরনের কথা হয়নি। তাই আমরা মিথ্যা রটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
সারাবাংলা/আরআইআর/আইই