আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের ইয়াকুটস্ক শহর পৃথিবীর সবচেয়ে ঠাণ্ডা শহরগুলোর একটি। তবে এবার যেন বিপরীত চিত্র। সাইবেরিয়ার মাইলের পর মাইল এলাকা দাবানলে পোড়ছে। আগুনের আঁচে শহরের চিরচেনা অসহ্য ঠাণ্ডাও উধাও। সিনএনএন’র খবর।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সাইবেরিয়ায় অঞ্চলের আগুনের ধোয়া রাশিয়া ছাড়িয়ে আমেরিকায়ও পৌঁছে গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে সিএনএন। বিশালাকারের আগুন আর শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত ধোঁয়া পৌঁছে দিয়েছে।
খুদ যুক্তরাষ্ট্রও দাবানলের আগুনে বিপর্যস্ত। সপ্তাহ ধরে ওরেগোন রাজ্যের প্রায় ৪ লাখ একর এলাকাজুড়ে দাবানল গ্রাস করে নিচ্ছে সবকিছু। দাবানলের ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে মেঘের আস্তরণ সৃষ্টি করায় বিশাল এলাকাজুড়ে বায়ুমানের মারাত্মক অবনতি হয়েছে।
ধোঁয়া ও আগুনে পোড়া গন্ধ বন ছেড়ে পৌঁছে গেছে লোকালয়ে। বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের আকাশে দেখা গেছে বাদামি ধোঁয়ার আস্তরণ ও বাতাসে পোড়া গন্ধ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতোই দাবানলের শিকার কানাডা। সেদেশের ব্রিটিশ কলম্বিয়া রাজ্যে দাবানল ধ্বংস করে দিয়েছে বহু লোকালয়। ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ। তিন দেশেই দমকলকর্মীরা জীবন বাজি রেখে আগুনের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছেন।
সাইবেরিয়ার ইয়োকুতিয়া প্রজাতন্ত্রের দমকলকর্মী স্বয়তোস্লাভ কোলেসভ জানিয়েছেন, এবারের দাবানলগুলো নজিরবিহীন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব প্রত্যক্ষ করছেন তিনি।
তিনি জানান, ইয়োকুতিয়া অঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়া এত তীব্র যে, সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশ থেকে পানি ছিটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার হেলিকপ্টার পাইলট স্বয়তোস্লাভ কোলেসভ পানি ছিটাতে গিয়েছিলেন। ঘন ধোঁয়ায় হেলিকপ্টার চালানো সম্ভব নয় বলে ফিরে এসেছেন তিনি।
কোলেসোভ আগুন নেভানোর কাজে বহু বছরের অভিজ্ঞ পাইলট। সিএনএন’কে তিনি জানান, সাইবেরিয়ার ইয়োকুতিয়ায় বেশিরভাগ অঞ্চলে ঘন জঙ্গলে ঢাকা, তাই এখানে দাবানল বেশি হয়। তবে এ বছরের মতো দাবানল আগে দেখা যায়নি। তিনি জানান, এবার উত্তর ইয়োকুতিয়ায়াও আগুন লেগেছে। সেখানে এর আগে দাবানলের ঘটনা ঘটেনি।
কোলেসভ জানান, বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু বিষয়ে যেসব সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, এবার তিনি তা সরাসরি দেখছেন। তিনি জানান, দাবানলগুলো আগের চেয়ে বড় ও গ্রাস ক্ষমতা বেশি, আগে যেসব এলাকায় দাবানল হতো না, এখন সেসব এলাকাও পোড়ছে।
সারাবাংলা/আইই