আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের আসাম ও মিজোরাম রাজ্যের সীমান্ত নিয়ে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই আসাম রাজ্যের। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, মাত্র দুই দিন আগে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পর থেকেই আসাম ও মিজোরামের সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই রাজ্যের পুলিশ। রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এরইমধ্যে সোমবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, তার রাজ্যের ৬ জন পুলিশ সদস্য সংঘর্ষে নিহিত হয়েছেন। হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘আসামের ৬ পুলিশ সদস্য মিজোরাম সীমান্তে নিহত হয়েছেন জেনে গভীর দুঃখ পেয়েছি। পুলিশ জওয়ানরা তাদের সাংবিধানিক সীমানা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা’।
এদিকে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালচামলিয়ানা এ ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন। তবে পুরো ঘটনায় তিনি প্রতিবেশী রাজ্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, আসাম সরকারের অযৌক্তিক আচরণের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায় মিজোরাম সরকার।
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হস্তক্ষেপ চান। জোরামথাঙ্গা টুইটারে লেখেন, ‘অমিত শাহজি, দয়া করি বিষয়টি দেখুন। এটি এখনই থামাতে হবে’।
এর আগে সীমান্তের পাশাপাশি দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও টুইট যুদ্ধে লিপ্ত হন। টুইটারে অমিত শাহ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাকে ট্যাগ দিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী দুটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠি হাতে একদল সাধারণ পোশাকের মানুষকে আটকাচ্ছে পুলিশ।
অপর এক ভিডিও প্রকাশ করে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘নিরীহ এ দম্পতি মিজোরামে ফিরছিলেন। তাদের হেনস্থা করেছে গুণ্ডা ও চোরেরা’।
এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীও টুইটারে জবাব দিয়েছেন। এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় জোরামথাঙ্গাজি, আপনি কি দয়া করে তদন্ত করে দেখবেন, কেন মিজোরামের সাধারণ মানুষের হাতে লাঠি এবং সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন?’
কিছুক্ষণ পর অপর এক টুইটে হেমন্ত লেখেন, ‘কোলাসিবের (মিজোরামের) পুলিশ সুপার আমাদের সীমানা ঘাঁটি থেকে আমাদেরই সরে যেতে বলেছেন। না সরলে নাকি তাদের সাধারণ মানুষ হিংসা থামাবে না। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে আমরা সরকার চালাব?’
সারাবাংলা/আইই