Last Updated:
বীরভূম: আজ থেকে ১০ বছর পিছনে যদি যাওয়া যায় তাহলে বর্তমান সময়ের থেকে আগেকার সময়টা ছিল একদম অন্যরকম। যেখানে বর্তমান সময়ের মত মানুষজন এতটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকতেন না বা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন না। এখন বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে এক মুহূর্তে যেন মোবাইল ছাড়া অচল জনজীবন। আজ থেকে কয়েক বছর আগে সূর্য ডুবলেই পাড়ার মোড়ে আড্ডা জমত। বিকেলের রোদ কিছুটা কমতেই খেলার মাঠে বাচ্চাদের কোলাহল শুনতে পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে সেই সব হারিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ৮ থেকে ৮০ সকলেই মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। খাবার সময় বাচ্চাদের হাতে মোবাইলে কার্টুন না লাগিয়ে দিলে অনেক বাচ্চা আবার মুখে খাবার তোলে না। তবে এর বাইরেও এক অন্য ধরনের মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য ধরা পড়ল বীরভূমের তারাপীঠ মা তারার মন্দিরে। দূর দুরান্ত থেকে পর্যটকেরা পরিবার বাচ্চা আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে তারাপীঠ মা তারা মন্দির পুজো দেওয়ার জন্য ছুটে আসেন। প্রত্যেকদিন এই তারাপীঠ মা তারা মন্দিরে হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম ঘটে।
তারা মন্দিরে আসেন মন ভরে ভক্তরা পুজো দেন এবং বাড়ি চলে যান। সেই তারাপীঠ মন্দিরের নাট মন্দিরে এক বছর ছয়ের বালক মায়ের মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরে এক দৃষ্টে মহাভারতের কমিক পড়ছে। যে বয়সে বর্তমানে ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ঠিক সেই বয়সেই এই বালক বই হাতে ব্যস্ত।
মন্দিরে ভিড়, কোলাহল, হাজার ভক্তের হৈচৈ, জয় তারা জয় তারা ধ্বনি। কিন্তু এইসবের মাঝেও এই ছোট্ট ছেলের একাগ্রতা অবিচল। পাশে বসে মা পুজোর বই পড়ছেন, আর ছেলে মনোযোগ দিয়ে মহাভারতের কমিক পড়ছে। আজকের মোবাইল-গেমের যুগে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য মনকে জয় করে নেওয়ার মত। ভক্তি, জ্ঞান আর সংস্কারের এক অনন্য মেলবন্ধন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতেই সকলেই প্রশংসা করছে সেই ছেলেটির।
সৌভিক রায়
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
June 05, 2025 9:20 PM IST