রহমতউল্লাহ আশিক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবীর চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মিজানুর রহমান মিতু নামে এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে পৌরসভার চাকনীড়খিন মোড় এলাকার এক ইট ভাটা থেকে ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে পত্নীতলা থানা পুলিশ।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ্।
তিনি জানান, সোমবার দুপুরে নজিপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নজিপুর পৌর ভবনে মেয়র রেজাউল কবীরকে লাঞ্চিত ও মারধরের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতে রেজাউল কবীর বাদী হয়ে কাউন্সিলর মিজানুরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে পৌর মেয়র রেজাউল কবীর পৌর ভবনের নিচতলায় নিজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় কাউন্সিলর মিজানুর রহমান কিছু বিলে স্বাক্ষর না করার জন্য মেয়রের কাছ কৈফিয়ত চান এবং তাৎক্ষণিক বিলে স্বাক্ষর করতে বলেন। এ সময় মেয়র বিলে স্বাক্ষর করতে না চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে কাউন্সিলর মিজানুর মেয়রকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। এতে মেয়র রেজাউল নিজ চেয়ার থেকে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় মিজানুর মেয়রকে এলোপাতাড়িভাবে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মেয়রের চিৎকার শুনে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এসে মেয়রকে উদ্ধার করে পত্নীতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়র রেজাউল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই কাউন্সিলর মিজানুর নিজের ইচ্ছেমতো প্রকল্প তৈরি করে কাজ করেছেন। ওই সব কাজের বিলে তিনি আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন। কিন্তু নিজের নিয়মবহির্ভূত কাজের বিলে আমি স্বাক্ষর না চাইলে তিনি আমার ওপর অতির্কিত হামলা করেন। নিয়মবর্হিভূত বিলে স্বাক্ষর করে টাকা আদায় এক ধরনের চাঁদাবাজি। বিলে স্বাক্ষর না করলে মিজানুর আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
ওসি শামসুল আলম শাহ্ জানান, নজিপুর পৌরসভার মেয়রকে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত পৌর কাউন্সিলর মিজানুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।