রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু পহেলা জুন থেকে

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২৯ মে, ২০২২
  • ১৯০ সময় দেখুন
বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু পহেলা জুন থেকে


আবু সাঈদ অপু , স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ::

বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস যাত্রীবাহি ট্রেনটি চলাচল শুরু হবে আগামী পহেলা জুন রোববার থেকে। বাংলাদেশ ও ভারত রেলওয়ে কতৃপক্ষ সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করার খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে নীলফামারীসহ  রংপুর বিভাগের ৮ জেলা’র মানুষজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের ভিসাসহ অন্যাণ্য জটিলতার অবসান হওয়ায় আগামী পহেলা জুন থেকে মিতালী এক্সপ্রেস যাত্রীবাহি ট্রেনটি ৪০৯ জন যাত্রী নিয়ে ভারত সীমান্তের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের নীলফামারী’র চিলাহাটি হয়ে ঢকা ক্যান্টমেন্ট পর্যন্ত চলাচল করবে।

এই ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সপ্তাহে দু’দিন অর্থাৎ রোববার ও বুধবার চলাচল করবে ঢাকা’র ক্যান্টমেন্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশের ঢাকা ক্যন্টমেন্ট থেকে নিউ জলপাইগুড়ি  পর্যন্ত সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলাচল করবে। যাত্রীবাহি মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে রংপুর বিভাগের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য দুটি কোচ বরাদ্দ রয়েছে।এ ই ট্রেনে ভ্রামণকারী যাত্রীদের অবশ্যই কোভিট-১৯’র টিকা গ্রহনের সনদ থাকতে হবে।

এই ট্রেনে ভ্রামনকারী যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এসিবাথ- ৪ হাজার ৯০৫ টাকা, এসি সিট-৩ হাজার ৮০৫ টাকা, এসি চেয়ার-২ হাজার ৭৫ টাকা ও ৫ বছর পর্যন্ত অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আর নীলফামারী’র চিলাহাটি স্টেশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ভাড়া নিধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২ শত ৫০ টাকা।

 মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকা ক্যান্টমেন্টের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে নীলফামারী’র চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে ৩০মিনিট অবস্থান করবে।

যদিও গেল ২৭ মার্চ এই রেলপথে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রমকারী যাত্রীবাহি মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচলে ভার্চুয়াল উদ্ধোধন করেন, বাংলাদেশে সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এ ভার্চুয়াল উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তছিলেন, রেলপথ মন্ত্রী নুরল ইসলাম সুজন ও ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণণ। এই রেলপথে ট্রেনটি সীমান্তের এপাড়-ওপাড় চলাচলের জন্য উদ্ধোধন করা হলেও প্রানঘাতি কোভিড-১৯’র  প্রদুর্ভাবের কারনে থমকে দাঁড়ায় ট্রেন চলচল কর্মযজ্ঞ।

 এই রেলপথটি দুরত্ব ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ৫শত ৯৫ কিলোমিটার। উল্লেখ্য- ব্রিটিস শাসনামলে  ইস্টবেঙ্গল কোম্পানি ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার এই রেলপথটি স্থাপন করে ৩টি বগির একটি স্যাটেল ট্রেন চলাচল করতো ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।

১৯৬৫ সালের তেভাগা আন্দোলনের সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রেলপথটি বন্ধ করে দেয়।

এর পর  রেলপথ যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের চিলাহাটি অংশে ইমিগ্রেশন কাষ্টম অফিসের কর্মকান্ড চালু ছিল পাসপোর্টধারীদে’র জন্য। হটাৎ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০০৪ সালে তাদের কর্মকান্ড গুছিয়ে নিয়ে  তা-বন্ধ করে দেয়া হয়।

দীর্ঘ  ৫৮ বছর পর বন্ধ রেলপথটি পুনরায় বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় ইমিগ্রেশন কাষ্টম অফিসের কার্যক্রম ও যাত্রীবাহি মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এমন প্রজ্ঞাপনের জরি করার পর থেকে আনন্দে ভাসছে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মানুষ।

উৎসুক মানুষজন বলছেন, চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাইতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলেননি এই অঞ্চলের মানুষজন।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর