যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এ ঘোষণা দেন।
গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও যুক্তরাজ্যকে আর অংশ নিতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসরায়েলের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে এ পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান গিডিয়ন সার।
এর আগে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। ৩ দেশের নেতারা বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ উদ্যোগের পক্ষে তারা প্রচার চালাবেন।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তার মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এ লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
জাতিসংঘ, ফিলিস্তিন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট ও খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।