মঙ্গলবার , ৮ নভেম্বর ২০২২ | ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তরুণ উদ্যোক্তা
  8. ধর্ম
  9. নারী ও শিশু
  10. প্রবাস সংবাদ
  11. প্রযুক্তি
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বহি বিশ্ব
  14. বাংলাদেশ
  15. বিনোদন

ছাত্রলীগে বয়সসীমা নিয়ে ধোঁয়াশা, নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

প্রতিবেদক
bdnewstimes
নভেম্বর ৮, ২০২২ ৮:২২ অপরাহ্ণ


রাহাতুল ইসলাম রাফি, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনে আসবে নতুন নেতৃত্ব। তবে এবার নেতৃত্বের বয়সসীমা কত থাকছে, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। গত সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় এবারও কি বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৯-ই থাকবে? নাকি এর চেয়েও বাড়বে?— এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

গত ৪ নভেম্বর বিকেলে গণভবনে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের চূড়ান্ত তারিখের ব্যাপারে সম্মতি দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী এ ফোরামের বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় সেদিনই। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন শেষ করতে হবে।

এদিকে, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার বয়সসীমা নিয়ে বরাবরের মতো এবারও আছে প্রশ্নবোধক চিহ্ন। নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বয়সসীমা মৌখিকভাবে অনূর্ধ্ব ২৯ থাকলেও এবার তা ৩০ বা তারও ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেও আছে জোর চাওয়া। তবে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র বলছে, অনূর্ধ্ব ২৭ বছর বয়সী যেকোনো ছাত্র ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য হবেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ২৮ বছর বয়সী নেতা নির্বাচন করার কথা বললেও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ বছর ৩৬৪ দিন অর্থাৎ অনূর্ধ্ব ২৯ বছর করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ভেতরকার একটি পক্ষ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩১ করার পক্ষে আছেন। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ গতবারের মতো বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৯ রাখার পক্ষেই আছেন।

তবে বয়সসীমার বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতির ওপর নির্ভর করায় অনূর্ধ্ব ২৯, ২৯-এর ঘরে এবং ৩০ ঊর্ধ্ব বয়সসীমায় থাকা সব প্রার্থীই নেতৃত্বে আসতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন।

তথ্য বলছে, ২০০৬ এর পর থেকে এ পর্যন্ত কখনোই ২৯ ঊর্ধ্ববয়সী কাউকে শীর্ষ নেতৃত্বে আনার নজির নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য বলছে, এবারের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা সিংহভাগ প্রার্থীরই বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ২৯-এর কোটায় নেই।

এদিকে, খোদ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাই বয়স বেশি হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘চাচ্চুদল’, ‘বুড়োদের সংগঠন’ বলে সভা-সমাবেশে বিভিন্ন সময় আখ্যা দিয়েছেন। সেদিক বিবেচনায় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার বয়সসীমা আরও বাড়ানো হবে কি না— এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বয়সসীমা বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বয়সসীমা কত হবে— এই বিষয়টি আমাদের নেত্রীর চিন্তার মধ্যে আছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।’

এদিকে, বহুল কাঙ্ক্ষিত সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যাপক তোড়জোড় চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চার শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের তোড়জোড় চালানোর রীতি নতুন নয়। এবারও ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। এছাড়া, সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজনীতির আঁতুড়ঘর খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, টিএসসিসহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মীদের নিয়ে সরব আছেন শীর্ষ পদপ্রার্থীরা। তারা জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থিতার খবর।

প্রার্থী হিসেবে মাঠের আলোচনায় যারা

ঢাকা অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক এহসান পিয়াল, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য বলছে, এদের সকলেই আছেন অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার কোটায়।

বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, উপ আইন সম্পাদক শেখ সুজন, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মোহাম্মদ এবং কবি জসীম উদ্দীন হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংশ্লিষ্ট কাগজের তথ্য বলছে, গত সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় এদের কেউই নেই অনূর্ধ্ব ২৯ কোটায়। অনূর্ধ্ব ৩০ কোটায় আছেন কেবল ফুয়াদ হাসান শাহাদাত।

এছাড়া উত্তরাঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম, গণশিক্ষা সম্পাদক আবদুল্লাহ হিল বারী ও গ্রন্থনা-প্রকাশনা সম্পাদক আবুল হাসনাত হিমেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংশ্লিষ্ট কাগজের তথ্যানুযায়ী, এদের মধ্যে অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার মধ্যে আছেন— রাকিবুল হাসান রাকিব এবং আবুল হাসনাত হিমেল।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, উপ-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার উদয়, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নেয়ামতউল্লাহ তপন, সহ-সভাপতি সোহান খান, সহ সম্পাদক এস এম রাকিব সিরাজী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, নেয়ামতুল্লাহ তমন, এস এম রাকিব সিরাজী ও রাশেদ শাহরিয়ার উদয় ছাড়া এদের কেউই নেই অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার কোটায়।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, ডাকসুর সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম, শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন আলোচনায় রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য বলছে, এদের মধ্যে অনূর্ধ্ব ২৯-এর কোটা ছাড়ায়নি কেবল আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন। অনূর্ধ্ব ৩০-এর কোটায় আছেন তানভীর হাসান সৈকত।

বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তুহিন রেজাও আলোচনায় থাকছেন। এদের মধ্যে রেজা ও নাহিদ হাসান শাহীন আছেন অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার কোটায়।

বরিশাল অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, উপ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান রহমান ও সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার মধ্যে আছেন শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সবুর খান কলিন্স, ইমরান জমাদ্দার ও খাদিমুল বাশার জয়।

সিলেট অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য বলছে, অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার মধ্যে আছেন কেবল আল আমিন রহমান।

সারাবাংলা/আরআইআর/পিটিএম





Source link

সর্বশেষ - খেলাধুলা