#নয়াদিল্লি: মেড ইন ইন্ডিয়া (Made In India) প্রকল্পের অধীনে দেশের শিল্প যাতে আরও বিকশিত হয়, সেজন্য সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকার, চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে একাধিক পৃষ্ঠপোষকতামূলক পরিকল্পনাও এই মর্মে পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। সেই প্রকল্পের অধীনেই এবার দেশে গড়ে তোলা হবে 5G নেটওয়ার্ক, সেই লক্ষ্যে এবার পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাল ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel) এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (Tata Consultancy Services Limited), সংক্ষেপে TCS।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, দেশীয় 5G নেটওয়ার্ক গড়ার ক্ষেত্রে কেন এই দুই সংস্থাই প্রাধান্য এবং সরকারি আনুকুল্য পেল! এই জায়গায় এসে জানিয়ে রাখা ভালো যে চলতি বছরের শুরুতেই হায়দরাবাদে লাইভ নেটওয়ার্কে 5G পরিষেবার একটি ডেমনস্ট্রেশন পেশ করেছিল ভারতী এয়ারটেল। সেই দিক থেকে দেখলে যেহেতু 5G নেটওয়ার্কের ব্যাপারে দেশের অন্য টেলেকম সংস্থাগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে এই সংস্থা, অতএব তার জোর বেশি তো হবেই! কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে আরও একটি পরিকাঠামোগত কারণ। যে O-RAN প্রযুক্তির উপরে ভিত্তি করে এই 5G নেটওয়ার্ক কাঠামো তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভারতী এয়ারটেল এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস লিমিটেড উভয়েই সেই O-RAN Alliance-এর সদস্য, ফলে এই দিক থেকেও দুই সংস্থার দাবি জোরালো।
জানা গিয়েছে যে দেশে এই 5G নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস লিমিটেড এর মধ্যেই O-RAN প্রযুক্তি নির্ভর রেডিও এবং NSA/SA Core তৈরি করে ফেলেছে যা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বাণিজ্যিক ভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে উপলব্ধ হবে। একই সঙ্গে 5G নেটওয়ার্ক ইক্যুইপমেন্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে, সফ্টওয়্যারের সঙ্গে তা এমবেড করার দিক থেকে সংস্থার সেরা কর্মীদের 3GPP এবং O-RAN ক্ষেত্রে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস লিমিটেড। অন্য দিকে পিছিয়ে নেই ভারতী এয়ারটেলও, এই সংস্থাও বর্তমান পরিস্থিতিতে যাবতী সরকারি বিধিনিষেধ মেনে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই পাইলট প্রোজেক্টের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।
স্বাভাবিক ভাবেই এই অংশীদারিত্বে আনন্দিত ভারতী এয়ারটেলের সিইও গোপাল বিট্ঠল। তাঁরই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে টাটা গ্রুপের তরফ থেকে এন গণপতি সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন যে দুই সংস্থা একত্রে বিশ্বমানের পরিষেবা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।