তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী ‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিনই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তাঁর পক্ষে কর্মী সমর্থকরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে উপজেলার সবক’টি চা-বাগানে স্বল্পসংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে চা-শ্রমিকদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন সাদিয়া নোশিন। প্রচারণার সময় একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটারদের নজর কেড়েছেন বলে অনেক চা-শ্রমিক ভোটার জানান।
বাসদের পাশাপাশি যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও সরব প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ‘কাঁচি’ প্রতীকের জন্য সম্প্রতি কুলাউড়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তারা ভোট প্রার্থনা করেন। এর আগে সব শরিকদের নিয়ে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে কাঁচি মার্কার সমর্থনে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরীর পক্ষে প্রখ্যাত জীনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর আহ্বানে শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠে নির্বাচনী জনসভার আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন সাদিয়া নোশিন চৌধুরী। তার আগে নোশিনের বাড়িতে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত থেকে সাদিয়া নোশিনের ‘কাঁচি’ মার্কাকে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য দিয়ে ভোট কামনা করেন জীনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।
যুক্তফ্রন্টের শরিক সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি কমরেড খন্দকার লুৎফুর রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সিপিবি কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ, হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এম খসরু চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফোরকান উদ্দিন আহমদ (বীরপ্রতীক), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইকবাল, সিপিবি কুলাউড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করীম মিন্টু, বাংলাদেশ জাসদ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার কায়ছুল, উদীচী কুলাউড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, যুব ইউনিয়ন উপজেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা পাভেলসহ অনেকেই তাসনিম চৌধুরীর পক্ষে ভোটের মাঠে সক্রিয় থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা এই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ‘কাঁচি’ মার্কার সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দৃঢ় আশাবাদী মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণ এবার ‘কাঁচি’ মার্কায় সাড়া দেবে।