হেলাল সাজওয়াল: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার অন্তর্গত ১ নং ত্রিবেণী ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল সন্ত্রাসী উজ্জল জোয়ার্দ্দার ও তার দলবলের হাতে খুন হন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজী অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আল আরাফাত। এই হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হওয়ায় ভয়ে এখন নিহতের স্বজনরা ভীত সন্ত্রস্ত। এমনটাই অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
বিনা অপরাধে আরাফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার দুই মাসের মধ্যেই হত্যা মামলার বেশির ভাগ আসামিই জামিনে বের হয়ে গেছে। সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী আসামিরা এখন নিহত আরাফাতের পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে এ অভিযোগ করেছেন নিহত আরাফাতের বাবা এবং হত্যা মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ী শৈলকুপা থানার চরপাড়া গ্রামে। ২০১৮ সালে একই থানার অন্তর্গত শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা রানা মজনু ও ফজলু তিন ভাইয়ের কাছ থেকে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে বাড়ী করে বসবাস করে আসছিলাম কিন্তু পার্শ্ববর্তী গোলাম জোয়ার্দ্দার যে কিনা রানা ফজলু মজনুদের চাচাতো ভাই হয় সে বিভিন্ন সময়ে গন্ডগোল পাকানোর মরিয়া হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আপোষ মীমাংসাও হয়। কিন্তু ঘটনার দিন ২৮ এপ্রিল ২০২০ মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে গন্ডগোল পাকিয়ে একরকম গুজব ছড়িয়ে আরাফাতকে হত্যাকরে। আরাফাত এবং তার বাবা জাহাঙ্গীর মিলে উজ্জলের বাবা গোলাম জোয়ার্দ্দারকে মারছে এমন গুজব শুনে উজ্জলের সাথে হত্যাকান্ডে যোগদেয় রাজ্জাক দানিয়েল আলামিন আ:আলীম ইলিয়াসসহ কয়েকজন। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের সুখের সংসার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় অকালে প্রান হারায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত’।
আরাফাতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ক্ষমতাসীনদের লেজুড় ধরে থাকা উজ্জলসহ মামলার আসামিরা সবাই প্রভাবশালী। উজ্জল এবং রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে শৈলকুপা থানায় একাধিক মামলা আছে। এই অপরাধীচক্রটির ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে আরাফাতের স্বজনর ‘।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আসামিরা এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের এবং সাক্ষীদেরও হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমাদেরকে নানানভাবে হয়রানিও করছে। আসামি উজ্জল জামিনে ছাড়া পেয়ে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছি’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ছিল নিরপরাধ। আমরা কোনো বিরোধে জড়িত নই। এখন আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি’।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শৈলকুপা থানায় একটি জিডি করেছেন পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, উজ্জল জোয়ার্দ্দারের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি’।
গত ২৮ এপ্রিল ২০২০ শৈলকুপার শেখপাড়া এলাকার জমি নিয়ে স্থানীয় গোলাম জোয়ার্দ্দার পরিবার এবং জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের সময় উদ্দেশ্য প্রনোদিতহয়ে বিনা কারনে উজ্জল ও তার সহযোগিরা হত্যা করে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাতকে নির্বিচারে পিটিয়ে হত্যা করে। এলাকাবাসীর দাবি, আরাফাত একজন নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো মহসীনকে ফোন করলে আরাফাত হত্যা সম্পর্কে তিনি জানান, মামলার চার্জশীট দাখিল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আসামীরা জামিনে এসে যদি হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে থানায় একটি জিডি করতে হবে। তিনি আরও জানান, আমি এখন আর শৈলকুপা থানায় নেই আমি অন্যত্র চলে এসেছি।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে শৈলকুপা থানাধীন ১নং ত্রিবেণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মোল্লাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুই পরিবারই আওয়ামী পরিবার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডটি সংঘঠিত হয়েছে এটা দুঃখজনক। তবে তাদেরকে আমি শেল্টার দেই একথা সত্য নয়। তারা আমার দূর সম্পর্কের আত্নীয় তবে এমন আত্নীয় আমার পুরো ইউনিয়ন জুড়েই রয়েছে। কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়’।
তিনি বলেন, ‘যদি আরাফাত হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে বের হয়ে এসে বাদী পক্ষকে হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে আদালতকে অবগত করে জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে’।