ইউনা
দ্রুত ফলাফল প্রদানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় এবং ডিএনসিসির পরিচালনায় প্রতিটি হাটে একটি করে সুরক্ষা কর্ণার বসানো হয়েছে, যেখানে ব্র্যাকের কর্মীরা এই সেবা প্রদান করছেন। ব্র্যাক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।
রাজধানীর ভাটারার সাইদনগর হাটে আজ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় ব্র্যাকের প্রতিনিধি হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির ম্যানেজার, টেকনিকেল ডা. মিরানা জামান। তিনি এই কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে মেয়রকে অবহিত করেন।
আজ থেকে ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ, যেমন- জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে, বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন, এমন ব্যক্তিরা নমুনা জমা দিতে পারবেন। এর জন্য সরকার নির্ধারিত ফি দিতে হবে। আগে থেকে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন পড়বে না। ফলাফল পজিটিভ হলে তা ৩০ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেয়া হবে এবং ৩ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। প্রতিটি সুরক্ষা কর্ণারে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি করে নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হবে। যা সরকারের চলমান করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছে ব্র্যাক।
এই কার্যক্রম উদ্বোধনকালে মেয়র আতিক বলেন, ‘মহামারির এই সংকটকালে ব্র্যাকের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এভাবে যার যার সাধ্যমত এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাপক জনসমাগমের কারণে কোরবানির পশুর হাট করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকির মাত্রা কমাতেই ব্র্যাক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। মাস্ক বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াচ্ছে। এখানে এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হলে হাটে আসা অন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।’
সরকারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রমে সাড়া দিয়ে ২০২০ সালের ১১ মার্চ থেকে ব্র্যাক বিভিন্ন স্থানে বুথের (কিওস্ক) মাধ্যমে আরটি-পিসিআর টেস্টের জন্য সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে আসছে। বর্তমানে তার ৪১টিতে সেবাদান কার্যক্রম চলছে। এর সঙ্গে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল থেকে ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে সর্বমোট ১৬টি বুথের মাধ্যমে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কার্যক্রম যোগ হয়।