রিয়াদ আহাম্মেদ, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে খুলনার ডুমুরিয়ার মাছ ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সালাম হাওলাদারের সঙ্গে প্রতারণা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। (১৮ নভেম্বর) শনিবার সন্ধ্যায় শ্রীবরদী বাজারে কাঁচা বাজার বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতি ও শ্রীবরদী শিল্প ও বনিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন শ্রীবরদী শিল্প ও বনিক সমিতির সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করা সালাম হাওলাদারের কাছ থেকে শ্রীবরদীর পোড়াগড় এলাকার শহিদুল ইসলাম জুয়েল প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৭০০ টাকার মাছ নেন, যার পরিবহন ভাড়া ১৯ হাজার ৫শত টাকাও সালাম নিজেই পরিশোধ করেন।
তিনি জানান, গত ৯ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে সালাম হাওলাদার জুয়েলের অনুরোধে মাছ সরবরাহ করেন। জুয়েল তাকে ১ লাখ টাকার একটি আইএফআইসি ব্যাংকের চেক দেন এবং বাকি ১ লাখ ৯২ হাজার ২ শত টাকা নগদ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু টাকা চাইতে গেলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগী সালাম হাওলাদার বলেন, টাকা চাইতেই জুয়েল আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে বলে, আরেকবার টাকা চাইতে এলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, চাতালে যাওয়ার জন্য টাকা প্রয়োজন। টাকা না পেলে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই জুয়েল কখন টাকা দেবে এই আশায় ১২ দিন ধরে তার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছি ও এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁচা বাজার বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনাল মিয়া বলেন, আমাদের বাজারের ব্যবসায়ীরা বিশ্বাসের ওপর লেনদেন করেন। বাহিরের একজন লোক এসে প্রতারণা করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। সালামের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।
সমিতির সহ-সভাপতি বলেন, একজন ব্যবসায়ী আরেকজনকে ঠকালে তা পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার ওপর হত্যার হুমকি এটা আরও ভয়াবহ। জুয়েল আমাদের এলাকার কেউ না, তিনি প্রতারক। আইনগত ব্যবস্থা জরুরি।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, জুয়েলের আচরণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
শেষে সালাম হাওলাদার বলেন, আমি প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখি। আশা করি আমি ন্যায়বিচার পাব এবং আমার ক্ষতিপূরণ ফেরত মিলবে।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম এ বিষয়ে বলেন মাছ ব্যবসায়ী সালাম হাওলাদারের অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করতে আমাদের তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। আইন সবার জন্য সমান; দোষী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।