রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ: আসছে ‘ইউজারনেম’ সুবিধা চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড শিক্ষার্থীদের, দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অপুষ্টির কারণে হামে বাড়ছে জটিলতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Avengers: Endgame Returns With A Bang! Encore Release Opens At Rs 7 Crore | Hollywood News Ex-India captain Asunta Lakra leads protest against Hockey India officials | Hockey News শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: রিজভী কালিয়াকৈরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিরতা করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে অপরিহার্য: ড. খলিলুর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে সরকার: নাহিদ ইসলাম জাতিসংঘের প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

চাকরী ছেড়ে গরুর খামারে আয় ১৮ লাখ টাকা!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৪৮৬ সময় দেখুন
চাকরী ছেড়ে গরুর খামারে আয় ১৮ লাখ টাকা!


চাকরী ছেড়ে গরুর খামারে আয় ১৮ লাখ টাকা!

একটি কোম্পানির বড় পদে চাকরি করতেন তিনি। কিন্তু চাকরিতে মন বসে না। কারো অধীনস্থ থাকতেও ভালো লাগে না। তাই চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। প্রথমে চারটি উন্নতমানের গাভী দিয়ে শুরু করেন খামার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে গরুর সংখ্যা। বর্তমানে তার খামারে গরু রয়েছে ৩২টি। তার মধ্যে ১৩টি গাভী, প্রতিদিন দিচ্ছে দেড়শ’ লিটারের বেশি দুধ।

আর সে দুধ বিক্রি করে মাসে আয় করছেন লাখ টাকারও বেশি। বছরে আয় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল করিম’র কথা। তিনি ২০১১ সালে স্নাতক পাস করেন। রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দূরে কাটাখালীর শ্যামনগর গ্রাম। সেখানেই ‘আবরার ডেইর ফার্ম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ বড়সড় জায়গা নিয়ে রয়েছে একটি গরুর খামার। চারিদিকে গরুর হাম্বা-হাম্বা ডাক। দুধ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাত্র রেডি করছেন দুজন কর্মচারী। খামার থেকে একটু দূরেই গরুকে খাওয়ানোর জন্য ৪ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস লাগানো হয়েছে।

শুরুর গল্প সম্পর্কে রবিউল বলেন, ২০১১ সালে স্নাতক শেষ করে চাকরিতে জয়েন করি। চাকরি করতে ভালো লাগে না, তাই ছেড়ে দিয়ে চলে আসি বাড়িতে। প্রথমে ছাগলের খামার করি। এক বছর পর তা ছেড়ে দেই। রাজশাহীতে গরুর খাঁটি দুধের খুব আকাল। সেই থেকেই দুধের ব্যবসা করার মনস্থির করি। গাভী কিনে পালন করা শুরু করি।

লোভনীয় চাকরি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরের অধীনস্থ থাকতে আমার ভালো লাগে না। নিজের মেধা দিয়ে পরের কোম্পানি কেন গড়ে দেবো? আমার ইচ্ছা নিজেই একটা কোম্পানি করবো। সেখানে আট-দশটা মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এটাই আমার কাছে ভালো লাগে, তাই চাকরি ছেড়ে চলে আসি। চাকরি করেই বা কত টাকা পেতাম। এখন আমার বছরে আয় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা। প্রতি মাসে আয় লাখ টাকার উপরে।

একজন এমবিএ ডিগ্রিধারী রবিউল করিম দুধ বিক্রি করছেন। তা নিয়ে প্রতিবেশীরা ঠাট্টা করেননি এমনটি নয়! তবে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়েছেন তিনি। করোনাকালে বেশির ভাগ ডেইরি খামারিদের লোকসান হয়েছে। তার লোকসান হয়নি এমনটি নয়। তবে তা বুদ্ধি দিয়ে উতরে গেছেন। অবিক্রিত দুধ ছানা তৈরি করে রাখছেন ফ্রিজে। সেখান থেকে বিক্রি করছেন মিষ্টির দোকানে।

রবিউল বলেন, খামার দেখাশুনার জন্য ২ জন কর্মচারী রাখা হয়েছে। তারা দুধ দোহন করা, খাবার দেয়া, গরুকে গোসল করানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করে। গরুকে খাওয়ানোর জন্য ৪ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস লাগিয়েছি। গাভীকে সব সময় দানাদার খাবার দিতে হয়। ভুট্টা, গম, ধানসহ আরো নানা উপাদান মিশিয়ে দানাদার খাবার নিজেই তৈরি করি। এতে খরচ অনেক বেঁচে যায়।

নতুন খামারিদের উদ্দেশ্যে রবিউল বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়া ভালো। গরুর খামার করে লোকসানের কথা ভাবা যায় না। শুধুমাত্র সঠিক পরিকল্পনা আর দৃঢ় মনোবল থাকলে এগিয়ে যাওয়া যায়। কৃষিকাজ, পশুপালন শিক্ষিতদের জন্য। একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হওয়া যায় সেইসঙ্গে ২-৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রবিউল করিম বলেন, রাজশাহী নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান করা ইচ্ছা রয়েছে। তথ্যসূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর